📌 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুজনকে তল্লাশির সময় তিনজন পুলিশ সদস্য পরিচয় না দেখিয়ে সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। ঘটনায় জড়িত ছিলেন কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও একজন পুলিশ সোর্স। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান হয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা তল্লাশির সময় তিনজনকে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। ফলে তাদেরকে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুজনকে তল্লাশির সময় তিনজন পুলিশ সদস্য পরিচয় না দেখিয়ে সন্দেহে জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসে
- 📌 জড়িত ছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ
- 📌 শিক্ষার্থী দুজন হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম ও অর্প
- 📌 ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীরা পুলিশ সদস্যদের পরিচয়পত্র না দেখিয়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানোর পর তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসে
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করা হয়
📰 বিস্তারিত
টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে যাওয়ার সময় দুই শিক্ষার্থীর পথরোধ করে তিনজন ব্যক্তি তাদের তল্লাশি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এতে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, তিনি ও তার সঙ্গীকে তল্লাশি করার সময় তাদের সঙ্গে অসদাচরণও করা হয়।
এএসআই শ্যামল সাহা বলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। পরে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, উভয়পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। শিক্ষার্থীদেরকে জোর করে তুলে নিয়ে আসা এবং পুলিশ সদস্যদের পরিচয়পত্র সঙ্গে না রাখা ছিল মূল কারণ। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে উভয়পক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
"আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।"
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, উভয়পক্ষেরই ভুল ছিল। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে মব কালচারের রেশ ছিল এবং এ ধরনের ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কুমিল্লা শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প, এএসআই শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ, পুলিশ সোর্স জাহিদ, প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন, সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন পুলিশ সদস্য, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ, ৫ নভেম্বর, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!