📌 চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মাসিক বিদ্যুৎ খরচ ৩০ হাজার থেকে কমিয়ে ৪-৫ হাজার টাকায় নিয়ে এসেছে। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সুবিধা হচ্ছে এবং মিরসরাই উপজেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই স্কুল সেরা হয়েছে
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের চরম পরিস্থিতিতে যখন সারা দেশে লোডশেডিং এবং বিলের বাড়তি খরচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, তখন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় (জেবি স্কুল) একটি অনুকরণীয় উদাহরণ স্থাপন করেছে। এই প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচে বিশাল সাশ্রয় সাধন করেছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সুবিধা সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৩০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪-৫ হাজার টাকায় নিয়ে এসেছে।
- 📌 এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা গরমে স্বস্তিতে ক্লাস করতে পারছে, যার ফলে মিরসরাই উপজেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই স্কুল সেরা হয়েছে।
- 📌 স্কুলটি ২৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নিজস্বভাবে বিদ্যুতে স্বাবলম্বী হয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।
- 📌 এই উদ্যোগের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে।
📰 বিস্তারিত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের কারণে দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় (জেবি স্কুল) এই সমস্যার সমাধান করে নিজস্ব উদ্যোগে সৌরবিদ্যুতির মাধ্যমে মাসিক খরচ ৩০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪-৫ হাজার টাকায় নিয়ে এসেছে। এই স্কুলের তিনটি ভবনের দুটির ছাদে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করে তারা শতাধিক ফ্যান, বাতি, কম্পিউটার এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষের এসি চালাতে সক্ষম হয়েছে।
এই উদ্যোগের সামাজিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে তীব্র গরম ও অস্বস্তির সমস্যা ছিল। কিন্তু সৌরবিদ্যুতির সুবিধায় শিক্ষার্থীরা গরমে স্বস্তিতে ক্লাস করতে পারছে। এই সুবিধার প্রত্যক্ষ ফলাফল দেখা গেছে তাদের সাম্প্রতিক ফলাফলে—চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মিরসরাই উপজেলায় এই স্কুল সেরা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন উল্লেখ করেছে যে, সরকার বর্তমানে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নানা প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে জেবি স্কুলের মতো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব অর্থায়নে ২৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বিদ্যুতে স্বাবলম্বী হতে পারে, তবে দেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, হাসপাতাল ও সরকারি দপ্তরগুলো কেন এই উদ্যোগ অনুসরণ না করে? যদি হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি ভবন জেবি স্কুলের এই ‘সবুজ মডেল’ অনুসরণ করে, তবে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে।
"আমরা জেবি স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এটি দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দিকনির্দেশনা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ, মিরসরাই উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ কিলোওয়াট (সৌর প্যানেল), ৩০ হাজার টাকা (পূর্বের বিল), ৪-৫ হাজার টাকা (বর্তমান বিল), ২৪ লাখ টাকা (বিনিয়োগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!