📌 এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তির খরচে পড়ছেন দুশ্চিন্তায় চার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, অন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য আর্থিক বাধা মোকাবেলা করছেন। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা তারা পড়াশোনা থামায়নি, কিন্তু কলেজে ভর্তির খরচ তাদের পরিবারকে চাপিয়ে দিচ্ছে
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও উচ্চমাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচে পড়ছেন দুশ্চিন্তায় চার শিক্ষার্থী। তাদের জীবনের গল্প অনুপ্রেরণামূলক হলেও আর্থিক সংকট তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদনে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাদিকা আক্তার (ফরিদপুর) জিপিএ-৫ পেলেও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে চান, কারণ মায়ের আর্থিক অবস্থা তা বহন করতে পারে না
- 📌 সানজিনা ইসলাম (রাজবাড়ী) ইউটিউব থেকে ফ্রি ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে জিপিএ-৫ পেয়েছেন, কিন্তু গোয়ালন্দ কলেজে ভর্তির খরচে মা-বাবা দুশ্চিন্তায়
- 📌 রুবাইয়া খাতুন রাকা (সিরাজগঞ্জ) কৃষক পরিবারের মেয়ে, জিপিএ-৫ পেলেও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তির খরচে পরিবার চাপিয়ে দিচ্ছে
- 📌 চার শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন অভাবগ্রস্ত পরিবারের সন্তান, তাদের বাবা-মা প্রবাসে গিয়ে কাজ পাননি বা মজুরি পাননি
📰 বিস্তারিত
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও উচ্চমাধ্যমিক বা কলেজে ভর্তির খরচ তাদের পরিবারকে চাপিয়ে দিচ্ছে। ফরিদপুরের জোহরা বেগম উচ্চবিদ্যালয়ের সাদিকা আক্তার একমাত্র শিক্ষার্থী যিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া, কিন্তু মায়ের আর্থিক অবস্থা তা সম্ভব করে তুলতে পারছে না। সাদিকার মা মোহসিনা বেগম বিবাহবিচ্ছেদের পরে একাকী দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে তুলেছেন। সাদিকা বলেন, ‘মা আমাকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, কিন্তু সংসারের অবস্থা বুঝেই আমি মানবিক বিভাগে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছি।’
রাজবাড়ীর সানজিনা ইসলাম ইউটিউব থেকে ফ্রি ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার বাবা সৌদি আরবে গিয়ে কাজ পাননি, ফলে পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সানজিনা বলেন, ‘মায়ের পক্ষে আমার প্রাইভেটের টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। উপায় না পেয়ে ইউটিউব থেকে ক্লাস নিতাম।’ তিনি গোয়ালন্দ কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রেখেছেন, কিন্তু খরচের কারণে দুশ্চিন্তায় আছেন।
সিরাজগঞ্জের রুবাইয়া খাতুন রাকা কৃষক পরিবারের মেয়ে। তার পরিবারের সম্বল হলো সামান্য জমি। জিপিএ-৫ পেলেও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তির খরচে পরিবার চাপিয়ে দিচ্ছে। তার বাবা মো. রাসেল হোসেন সরকার বলেছেন, ‘আমাদের জমির ফসলেই সংসার চলে, কিন্তু দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হয়।’
"আমার মেয়ে স্বপ্ন দেখেছিল চিকিৎসক হওয়ার। এ জন্য রাত–দিন পরিশ্রম করে সে জিপিএ–৫ পেয়েছে; কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে আমার পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়।"
মোহসিনা আক্তার (সাদিকার মা)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর (জোহরা বেগম উচ্চবিদ্যালয়), রাজবাড়ী (গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়), সিরাজগঞ্জ (ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাদিকা আক্তার, সানজিনা ইসলাম, রুবাইয়া খাতুন রাকা, মোহসিনা বেগম, রফিকুল ইসলাম, মো. রাসেল হোসেন সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (জিপিএ), ৯ (ওয়ার্ড নম্বর), ৫ (জিপিএ-৫ পেয়েছেন চার শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!