📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'ফর গড, নো করাপশন' — আমি রক্তের দোহাই দিচ্ছি। শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের স্মৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণেরও জোর দেন উপাচার্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাস্তার উন্নয়ন কাজ ও শহীদ হাবিবুর রহমান কবির সরণির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপাচার্য এই কথাগুলো বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 "ফর গড, নো করাপশন" — জাবি উপাচার্য ড. কামরুল আহসানের সতর্কবার্তা: উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই
- 📌 "হাজার মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমি অন্যায় করব না" — উপাচার্য ব্যক্তিগত স্বার্থ ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেবেন
- 📌 শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের স্মৃতি শুধু স্থাপনা নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণ করা প্রয়োজন
- 📌 ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা জোর দিয়ে উপাচার্য বলেন, "আমি যুক্তি দেব, আপনি যদি ভালো না মনে করেন, তাহলে দূরত্ব রাখুন"
- 📌 জাকসু ও ছাত্রদলের কার্যক্রম প্রশংসা করে উপাচার্য বলেন, "কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি, আমি এত কাজ করছি"
📰 বিস্তারিত
উপাচার্য ড. কামরুল আহসান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা উন্নয়ন ও শহীদ হাবিবুর রহমান কবির সরণির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, "আমি সমস্ত মানুষের উপস্থিতিতে ইউজিসি, মন্ত্রণালয় সবাইকে বলছি, ফর গড, নো করাপশন। এটা আমার লিডার এবং হাজার মানুষের রক্তের দোহাই। এটা হবে না। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি করাপশন ফ্রি।" তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেবার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, "আমি চাই জাহাঙ্গীরনগরের স্বার্থকে সবার আগে দেখতে। আমার ইন্টিগ্রিটি এবং দ্য ইন্টারেস্ট অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি।"
উপাচার্য আরও বলেন, "হাজার মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে একজন উপাচার্য এরকম কাজ করে অন্যায় করেনি, এটা দাবি করতে পারে না।" তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণের জন্য নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পদ ছাড়তেও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, "জাহাঙ্গীরনগরের কল্যাণের জন্য আমি ব্যক্তিগত কল্যাণ, এমনকি আমার পথ থেকে চলে যাওয়া পর্যন্ত আমি কেয়ার করি না। আই অ্যাম রেডি অলওয়েজ।" তিনি নিজের নৈতিক অবস্থানের বিষয়ে জোর দেন, "হয়তোবা আমি ভিসি হিসেবে আছি, মেবি দ্য আফটার টুমরো আমি আমার পজিশন হারাব। বাট আই অ্যাম নট লুজিং মাই ইন্টিগ্রিটি।"
শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের স্মৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, "কবির শুধুমাত্র মৃত একটা নেতার নাম নয়। কবির হচ্ছে জীবন্ত অগ্নিয়োগী।" তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। উপাচার্য বলেন, "আমি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা পছন্দ করি না। আমি আর্গুমেন্ট করা পছন্দ করি। আমার যুক্তি যদি আপনার চেয়ে ভালো হয়, আমাকে ফলো করেন। আর যদি ভালো না লাগে, ইউ কিপ ডিস্টেন্স।" তিনি আরও বলেন, "কারও গায়ে হাত তোলার আগে মনে রাখবেন, আপনার জন্য একটা সময় আসবে, আপনার গায়েও হাত আসবে।"
অনুষ্ঠানে উপাচার্য ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এতগুলো কাজ করছি, কোথাও এসে ছাত্রদল একটি মুহূর্তের জন্য কোনো বাধা তৈরি করেনি। জাকসু অত্যন্ত নির্বিঘ্নে কাজ করছে।" তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "তোমাদের যা প্রাপ্য, সবকিছুই হবে। তবে সেটা ন্যায্যভাবে, ওই ফ্যাসিস্ট আমলের দখলদারিত্বের মাধ্যমে নয়।"
"আজকে নামাজে তাকে স্মরণ করবেন। আমাদের এই আনুষ্ঠানিকতার চাইতে তার জন্য সেটা অনেক বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান (উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!