📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভা ও 'মনের বন্ধু' সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যার ঝুঁকি ও মানসিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও পরীক্ষার ফলাফল থেকে উদ্ভূত আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’র যৌথ উদ্যোগে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় ভার্চ্যুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ও আত্মহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে গভীর আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই আয়োজন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাবি বন্ধুসভা ও ‘মনের বন্ধু’র যৌথ সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আনতাজ হেনা আঁখি আত্মহত্যার ঝুঁকি ও মানসিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন।
- 📌 কাউন্সেলর আঁখি বলেন, ‘মানসিক সংকট কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়—সবাই জীবনের কোনো পর্যায়ে মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে পারে।’
- 📌 শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির উদ্বেগ তুলে ধরে পরিবারের মানসিক সমর্থন ও সহানুভূতির গুরুত্ব জোরালোভাবে বলেন তিনি।
- 📌 ‘মনের বন্ধু’র প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।
- 📌 সেমিনার সঞ্চালক প্রথম আলোর ক্যাম্পেইন অফিসার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক নীরবতা দূর করতে হবে—মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব প্রত্যেকের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে।’
📰 বিস্তারিত
আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আনতাজ হেনা আঁখি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জানান। তিনি বলেন, মানসিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র বিষণ্নতা, একাকিত্ব বা ব্যর্থতার অনুভূতি দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জাতীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পরিবারের সমর্থন ও সামাজিক গ্লানির অভাব এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
কাউন্সেলর আঁখি পরামর্শ দেন, ‘মানসিক চাপ বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব চেপে রাখা উচিত নয়। বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নেওয়া উচিত। নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কেবল সামাজিক প্রত্যাশার দিকে মনোনিবেশ না করে।’
সেমিনার সঞ্চালক প্রথম আলোর ক্যাম্পেইন অফিসার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও নীরবতা দূর করতে হবে। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব প্রত্যেকের জীবনে প্রতিফলিত করা। জাবি বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধি করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত—এই প্রতিপাদ্য আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে।’
"মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়। যে কেউ জীবনের যেকোনো পর্যায়ে তীব্র মানসিক চাপ, ব্যর্থতা, ট্রমা কিংবা হতাশার ভেতর দিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো আক্রান্ত ব্যক্তির অনুভূতিকে অবমূল্যায়ন না করে বিচারহীনভাবে শোনা, তাকে আশ্বস্ত করা এবং সময়মতো পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভার্চ্যুয়াল সেমিনার (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনতাজ হেনা আঁখি (সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর), গিয়াস উদ্দিন (প্রথম আলোর ক্যাম্পেইন অফিসার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর (আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!