📌 মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বই ছাপানোর কাজে দর ফাঁস ও অনিয়মের কারণে সরকারের ২৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। ঠিকাদাররা সরকারের প্রাক্কলিত দর জানার পর কাজ ভাগাভাগি করে সমঝোতা করে দরপত্র দাখিল করেছে। এনসিটিবির সদস্য স্বীকার করেছেন দর ফাঁসের ঘটনা
মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বই ছাপানোর কাজে অনিয়ম ও দর ফাঁসের কারণে সরকারের ২৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগাভাগি ও প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এনসিটিবির সদস্য দর ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বই ছাপাতে ২৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে অনিয়মের কারণে
- 📌 ঠিকাদাররা সরকারের প্রাক্কলিত দর জানার পর কাজ ভাগাভাগি করে সমঝোতা করে দরপত্র দাখিল করেছে
- 📌 প্রাথমিক স্তরের বইয়ের জন্য প্রতি ফর্মা কাগজের প্রাক্কলিত দর ৩ টাকা ২৬ পয়সা, মাধ্যমিকের জন্য ২ টাকা ৮৫ পয়সা
- 📌 ৩১ কোটি বই ছাপানো হবে, যার মধ্যে ২২ কোটি মাধ্যমিক স্তরের
- 📌 বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেছেন, ‘সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় কাজে অংশ নিতে পারিনি’
- 📌 এনসিটিবির সদস্য আবু নাসের স্বীকার করেছেন, দর ফাঁসের বিষয়টি এনসিটিবির দুর্বলতার কারণে ঘটেছে
📰 বিস্তারিত
বিনা মূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদাররা সরকারের প্রাক্কলিত দর আগেই জানতে পেরে কাজ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেছে। প্রাথমিকভাবে সরকার একটি প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু তা ফাঁস হয়ে যায়। ফাঁস হওয়া দর দেখে ঠিকাদাররা সরকারের দর বাড়ানোর চাপ দেন। এনসিটিবি তা মেনে নিয়ে প্রাক্কলিত দর বাড়িয়ে দেয়। পরে ঠিকাদাররা সমঝোতা করে কাজ ভাগাভাগি করে দরপত্র দাখিল করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাক্কলিত মূল্য বৃদ্ধি ও কাজ ভাগাভাগির কারণে শুধু মাধ্যমিকের বই ছাপাতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫২ কোটি টাকা।
এনসিটিবির সদস্য আবু নাসের স্বীকার করেছেন, “কোনো পর্যায় থেকে তথ্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে থাকে। এটা আমাদের দুর্বলতা।” সরকারি ক্রয়বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক্কলিত দর ঠিকাদারদের জানার কথা নয়। মাঝপথে দর বাড়ানো নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। প্রতিযোগিতা কম হলে সরকারের কাজের ব্যয় বেড়ে যায় এবং গুণগত মান খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান প্রথম আলোকে বলেন, “এবার অনিয়মের কারণে সরকারের খরচ অনেক বাড়বে। আমার কাজ করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, তাই অংশ নিইনি।” তিনি আরও বলেন, “মনে হয়েছে, এবার আমার কাজ করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, তাই অংশ নিইনি।”
২০২৭ সালের জন্য ছাপানো হবে প্রায় ৩১ কোটি বই। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বইয়ের সংখ্যা ২২ কোটির বেশি, বাকিগুলো প্রাথমিক স্তরের। বই ছাপার কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য, বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া। এ জন্য নভেম্বরের মধ্যে জেলা ও উপজেলায় বই পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
"মনে হয়েছে, এবার আমার কাজ করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, তাই অংশ নিইনি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (এনসিটিবি কার্যালয়), জেলা ও উপজেলা (বই বিতরণ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফায়েল খান (সাবেক মুদ্রণশিল্প সমিতি সভাপতি), আবু নাসের (এনসিটিবি সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫২ কোটি টাকা (অতিরিক্ত ব্যয়), ৩১ কোটি বই (মোট), ২২ কোটি বই (মাধ্যমিক), ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা (মোট ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!