📌 আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ইউনেস্কো ১৯৬৬ সাল থেকে এই দিবস পালন করে আসছে। এই বছর ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ বিষয়বস্তুতে জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ২০২২ সালে ৮১ শতাংশে পৌঁছলেও আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ
আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ইউনেস্কো ১৯৬৬ সাল থেকে এই দিবসটি উদ্যাপন করে আসছে, এবং এই বছর দিবসটি পৌঁছেছে ষাট বছরের মাইলফলক। এবারের মূল বিষয়বস্তু ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ — যা মৌলিক পড়লেখা ছাড়াও আর্থিক সাক্ষরতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। সাক্ষরতা শুধু বর্ণ চেনা বা পড়লেখা নয়, বরং একটি জাতির অন্তর্ভুক্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং জীবিকার সুযোগের মূল হাতিয়ার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ২০২৪ সালে ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৫ সালের ৮৬ শতাংশ থেকে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 এখনো বিশ্বের প্রায় ৭৪০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মৌলিক সাক্ষরতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, যার অধিকাংশ বাস করে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ায়।
- 📌 দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (সাড়ে তিন কোটি) নিরক্ষর মানুষের বাস। বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ১৯৮১ সালে মাত্র ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, যা ২০২২ সালে ৮১ শতাংশে উন্নীত হলেও সাম্প্রতিক জরিপে ৭৬-৭৮ শতাংশের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়।
- 📌 বাংলাদেশে মৌলিক সাক্ষরতার ঘাটতি আর্থিক সাক্ষরতায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে — ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ব্যবস্থাপনা, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান কমে গেছে।
- 📌 নারী-পুরুষ সাক্ষরতার ব্যবধান এখনো প্রায় চার শতাংশ পয়েন্টের — যা আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে নারীদের ক্ষমতায়নকে প্রভাবিত করছে।
- 📌 স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই আর্থিক সাক্ষরতা শেখানো হয়, যা তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- 📌 শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ আর্থিক সাক্ষরতার হার অর্জন করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল বিষয়বস্তু ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ — যা মৌলিক পড়লেখা ছাড়াও আর্থিক সাক্ষরতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। সাক্ষরতা শুধু বর্ণ চেনা বা পড়লেখা নয়, বরং একটি জাতির অন্তর্ভুক্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং জীবিকার সুযোগের মূল হাতিয়ার। বিশ্বে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ২০২৪ সালে ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৫ সালের ৮৬ শতাংশ থেকে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো বিশ্বের প্রায় ৭৪০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মৌলিক সাক্ষরতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, যার অধিকাংশ বাস করে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ায়।
দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (সাড়ে তিন কোটি) নিরক্ষর মানুষের বাস। বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ১৯৮১ সালে মাত্র ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, যা ২০২২ সালে ৮১ শতাংশে উন্নীত হলেও সাম্প্রতিক জরিপে ৭৬-৭৮ শতাংশের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। এই অসামঞ্জস্যতা প্রশ্ন তোলে পরিমাপ পদ্ধতি ও ধারাবাহিকতার বিষয়ে। বিগত দুই দশকে অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। এর পেছনে কাজ করছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, স্কুল-বহির্ভূত শিশু, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা-অবকাঠামোর ঘাটতি এবং নারী-পুরুষ সাক্ষরতার ব্যবধান — বর্তমানে যা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্টের।
মৌলিক সাক্ষরতার ঘাটতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে আর্থিক সাক্ষরতায়। যিনি স্বাক্ষর দিতে পারেন না, তিনি ব্যাংক ফরম বুঝবেন কীভাবে, ঋণচুক্তির শর্ত পড়বেন কীভাবে, কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এসএমএস বার্তা যাচাই করবেন কীভাবে? বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহক এখন প্রায় ২৪ কোটি, ব্যাংক হিসাবধারীর হারও অর্ধেকের বেশি। কিন্তু অ্যাকাউন্ট থাকা মানেই ব্যবহারে দক্ষতা নয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারী শুধু টাকা পাঠানো বা রিচার্জের বাইরে যেতে পারেন না। ক্ষুদ্রবিমা, সঞ্চয়পত্র, ডিজিটাল ডিপিএস বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ধারণা তাদের কাছে এখনো অচেনা।
নারী-পুরুষ সাক্ষরতার ব্যবধানও লক্ষণীয়। দেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান ক্রমবর্ধমান হলেও পারিবারিক আর্থিক সিদ্ধান্তে তাদের কণ্ঠস্বর এখনো সীমিত। এই লিঙ্গবৈষম্য শিক্ষা-সাক্ষরতায় থেকে যাওয়া লিঙ্গবৈষম্যের ফল। তাই আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতি মেটাতে চাইলে মৌলিক সাক্ষরতার ভিত মজবুত করা ছাড়া উপায় নেই। এটি ধাপে ধাপে এগোনোর বিষয় — আগে বর্ণ চেনা, পড়া-লেখা রপ্ত করা, তারপরই সংখ্যাজ্ঞান ও আর্থিক ধারণা বোঝার সক্ষমতা তৈরি হয়।
"যেসব দেশ শিক্ষার প্রাথমিক স্তরেই বিনিয়োগ করেছে, তারাই পরবর্তীতে দ্রুত আর্থিক সাক্ষরতায় এগিয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর কথা বলা যায় — যেখানে সর্বজনীন সাক্ষরতার পাশাপাশি স্কুলপাঠ্যক্রমেই বাজেট, সঞ্চয়, কর ও ঋণ ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মধ্য-দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া মহাদেশের, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, পুরুষ, মানুষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ সেপ্টেম্বর, ১৫ বছর, ৮৮ শতাংশ, ৮৬ শতাংশ, ৭৪০ মিলিয়ন, ৭২ শতাংশ, ৭৭ শতাংশ, ৪০ শতাংশ, ৮১ শতাংশ, ৭৬-৭৮ শতাংশ, ২৪ কোটি, ৪ শতাংশ পয়েন্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!