📌 ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সফরকালে নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। কর্মীদের ধর্মঘটের প্রতিবাদে টাওয়ার বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের অনুরোধে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার শর্ত মেনে নেওয়া হয়নি
ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠী বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস) এর প্রতিনিধিদলের সফরকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। কর্মীদের ধর্মঘটের প্রতিবাদে টাওয়ারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইফেল টাওয়ারে হিন্দু গোষ্ঠীর সফরকালে নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে কর্মীদের অভিযোগ
- 📌 কর্মীদের প্রতিবাদে টাওয়ারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ধর্মঘট চলছে
- 📌 কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার শর্ত মেনে নেওয়া হয়নি, যা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের বিপরীত
- 📌 বিএপিএসের প্রতিনিধিদল বলেছে, কোনো কর্মীকে প্রবেশ বাধা দেওয়া হয়নি, তবে নারীদের নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে
- 📌 প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত দ্রুত শুরু হবে
- 📌 ফ্রান্সের সমতাবিষয়ক মন্ত্রী অরোর বের্ঝও বলেছেন, ফ্রান্সে নারীদের উপস্থিতি সীমিত করার বিষয়টি মেনে নেওয়া যাবে না
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠী বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস) এর প্রতিনিধিদল সফরকালে নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীদের ধর্মঘটের প্রতিবাদে টাওয়ারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত সপ্তাহে বিএপিএসের প্রায় ১০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ারে গিয়েছিল। তারা প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবে যোগ দিতে গিয়েছিল। এই সফরকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
কর্মীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের জায়গায় অন্য কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মীদের বলা হয়, ‘নারী কর্মীদের আড়ালে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল’। কর্মীদের বলা হয়, ‘কয়েকজনকে তাদের দায়িত্বের জায়গা ছেড়ে অন্য এলাকায় সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিছু দায়িত্বের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল সেখানে অবস্থানকালে সব নারী কর্মীকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা দিয়ে যাতায়াত বা সেসব এলাকা অতিক্রম না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল’।
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই স্বীকার করেছে যে, হিন্দু প্রতিনিধিদলটি এমনভাবে সফরের আয়োজনের অনুরোধ করেছিল, যাতে ‘নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা যায়’। এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি বলে স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘ওই শর্তগুলো প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবোধ কিংবা নারী ও পুরুষের সমতার নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না’।
বিবৃতিতে এসইটিইর সভাপতি আরিয়েল ভেইল বলেছেন, ‘এটি স্পষ্টতই গ্রহণযোগ্য কোনো চর্চা নয়। আমি আবারও আইফেল টাওয়ারের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার প্রতি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি’।
"এটি স্পষ্টতই গ্রহণযোগ্য কোনো চর্চা নয়। আমি আবারও আইফেল টাওয়ারের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার প্রতি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি।"
বিএপিএসের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এটি একটি আধ্যাত্মিক ও স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠন। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস, সেবা ও বৈশ্বিক সম্প্রীতির মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত বিকাশের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে কাজ করাই সংগঠনটির লক্ষ্য। ভারতে বিএপিএস একটি নিবন্ধিত দাতব্য ট্রাস্ট। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) পরামর্শক মর্যাদাসম্পন্ন একটি বেসরকারি সংস্থাও এটি।
বিক্ষোভের পর বিএপিএসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের প্রতিনিধিদলের আকার বিবেচনায় অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা যতটা সম্ভব কমাতে স্বাভাবিক দর্শনার্থী প্রবেশের সময়ের শুরুতেই আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। আমাদের জানামতে, কোনো সময়ই কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়নি’। তবে কর্মীদের অভিযোগ রয়েছে যে, নারীদের নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।
প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করা হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়ে তিনি অবগত এবং তাঁদের অসন্তোষ যৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন। গ্রেগোয়ার লেখেন, ‘যে ঘটনাগুলোর কারণে এই বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর সব তথ্য দ্রুত প্রকাশ হওয়া জরুরি’।
ফ্রান্সের সমতাবিষয়ক মন্ত্রী অরোর বের্ঝও এক্সে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘ফ্রান্সে আমরা নারীদের নিজেদের মুছে ফেলতে বলি না। কোনো মতবাদ বা ধর্ম প্রজাতন্ত্রের আইনের ঊর্ধ্বে নয়’। প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাব্রিয়েল আতালও এই ঘটনাকে সমালোচনা করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আইফেল টাওয়ার, প্যারিস, ফ্রান্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিয়েল ভেইল (এসইটিইর সভাপতি), এমানুয়েল গ্রেগোয়ার (প্যারিসের মেয়র), অরোর বের্ঝ (ফ্রান্সের সমতাবিষয়ক মন্ত্রী)
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ১০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!