📌 স্কুলে টিফিন ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে। প্রাথমিকভাবে দাতব্য সংস্থার উদ্যোগে চালু হলেও পরে সরকারি স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে মিড ডে মিল চালু হয়েছে
বর্তমানে স্কুলে টিফিন ভাগাভাগি করে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। একসময় স্কুলগুলো ছিল বাড়ির কাছাকাছি, ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী দুপুরে বাড়ি গিয়ে খেত। যারা দূরে থাকত তারা টিফিন বক্সে খাবার নিয়ে আসত। আবাসিক স্কুলের শিক্ষার্থীরাই একত্রে ডাইনিং হলে খাওয়ার সুযোগ পেত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে শিশুদের অপুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে স্কুলে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়
- 📌 ১৮৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি স্কুলে প্রথম পেনিতে দুপুরের খাবার দেওয়া শুরু হয়
- 📌 বোস্টনে নারী সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে খাবার বিভিন্ন স্কুলে সরবরাহ করত
- 📌 গ্রামের স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষের চুলাতেই স্যুপ গরম করে শিক্ষার্থীরা খেত
- 📌 ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ অ্যাক্ট পাস করে, যার ফলে স্কুল লাঞ্চ কর্মসূচি সরকারি স্বীকৃতি পায়
- 📌 বাংলাদেশে সরকারিভাবে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু হয়েছে, যেখানে পাউরুটি, সেদ্ধ ডিম ও কলা দেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সময় থেকেই শিশুদের অপুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তখন দাতব্য সংস্থাগুলো স্কুলে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। শুরুতে এটি ছিল সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং স্থানীয় উদ্যোগ। ফিলাডেলফিয়া ও বোস্টন শহরে এই কর্মসূচি সবার আগে চালু হয়। ফিলাডেলফিয়ার একটি স্কুলে ১৮৯৪ সালে মাত্র এক পেনিতে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেওয়া শুরু হয়। অন্যদিকে বোস্টনে নারী সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে খাবার বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দিত। কয়েক বছর পর কিছু স্কুলে সপ্তাহে কয়েক দিন গরম খাবার পরিবেশন শুরু হয়। তবে তখন আলাদা খাবারঘর ছিল না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বেঞ্চে বসেই খেত।
গ্রামের স্কুলগুলোর অবস্থা ছিল আরও কঠিন। রান্নাঘর বা ডাইনিং রুমের সুযোগ না থাকায় শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের চুলাতেই বড় হাঁড়িতে স্যুপ গরম করতেন। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীরা কাচের জারে করে ম্যাকারনি, স্যুপ বা কোকো এনে গরম পানিতে রেখে দিত। দুপুর হওয়ার আগেই খাবার গরম হয়ে যেত। এই পদ্ধতিই তখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯২০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যারেন্ট-টিচার অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ) এই উদ্যোগে যুক্ত হলে স্কুল লাঞ্চ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হয়। তারা অর্থ, রান্নার সরঞ্জাম ও ছোট চুলা কিনে দিতে সহায়তা করত। তবে সরকারি আইন না থাকায় অনেক স্কুল বোর্ড এই দায়িত্ব নিতে চাইত না। রান্নাঘর ও খাবারঘর তৈরি করাও ছিল ব্যয়বহুল। অবশেষে ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ অ্যাক্ট পাস করে। প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করলে স্কুল লাঞ্চ কর্মসূচি সরকারি স্বীকৃতি পায়। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্কুলে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন শুরু হয়।
এদিকে শিল্পকারখানায় কাজের সুযোগ বাড়ায় মানুষ বাড়ি থেকে দূরে কাজ করতে শুরু করে। তখন দ্রুত খাবার পরিবেশনের জন্য ক্যাফেটেরিয়া পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ট্রে হাতে নিজের পছন্দের খাবার নেওয়ার এই ব্যবস্থা পরে স্কুলেও চালু হয়। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু হয়েছে। এতে দেওয়া হয় পাউরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা ইত্যাদি। তবে অনেক শিক্ষার্থী নিজেরা নুডলস, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে আসে বা দোকান থেকে কিনে খায়।
"টিফিনে স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পুষ্টির দিকে সবারই খেয়াল রাখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: হ্যারি এস ট্রুম্যান, নারী সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৯৪, ১৯৪৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!