📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের একবছর পূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা যেমন আবাসন সংকট, খাদ্য মান ও নিরাপত্তা সমাধান হয়নি। নেতারা ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ায় আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের একবছর পূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানের পথে বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডাকসু নির্বাচনের একবছর পূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের ৩৬টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাত্র কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে
- 📌 আবাসন সংকটের সমাধানে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও ৭০ শতাংশ সংকট দূর হবে বলে আশাবাদ
- 📌 হলের খাদ্য মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরীক্ষার খরচে প্রশাসনিক বাধা রয়েছে
- 📌 ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, অনাবাসিক ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার ও ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’ চালুর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি
- 📌 ডাকসু নেতারা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত
📰 বিস্তারিত
৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের একবছর পূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানের পথে বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গত নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৩টি পদ জয়লাভ করে। নির্বাচনের আগে ‘১২ মাসে ৩৬ সংস্কার’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে একবছর পর এসব প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও ডাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড ঘিরে ক্যাম্পাস জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
আবাসন সংকটের সমাধানে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শামসুন নাহার হলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৮৪ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯১ জন এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ১৪১ জন শিক্ষার্থী হলের সিট পাওয়ার শর্ত পূরণ করলেও সিট পাননি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ সারাবাংলাকে বলেন, “সংকট দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের বরাদ্দের বাইরে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে প্রায় ৭০ শতাংশ আবাসন সংকট দূর হবে।”
হল ও ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবারের মান নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি। ফুড সেফটি অথরিটি দিয়ে খাবার পরীক্ষা করতে প্রতিবার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়, যা নিয়মিত করতে প্রশাসনিক বাধা রয়েছে। এছাড়া মেস সিস্টেমের কারণে ‘মিল ভাউচার’ চালু করা সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগত ও ভবঘুরেদের উপদ্রব এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে চলাচলে ভয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েই গেছে।
প্রশাসন ও ডাকসুর পালটা-পালটি অভিযোগের মধ্যে, ডাকসু নেতারা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম নিজেই আগামী মেয়র নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত। এছাড়া ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার মাঠে শিশুদের কানে ধরিয়ে সাজা দেওয়া, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের হিজড়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ানোর মতো ঘটনায় নেতাদের জড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি।
"সংকট দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের বরাদ্দের বাইরে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ আবাসন সংকট দূর হবে।"
"বরাদ্দ নয়, শুধু অনুমতির ক্ষেত্রেও অনেক সময় সহযোগিতা মেলেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ সেপ্টেম্বর (তারিখ), ২৮টি পদ (প্রতিদ্বন্দ্বিতা), ২৩টি পদ (জয়), ১২ মাসে ৩৬ সংস্কার, ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা (উন্নয়ন প্রকল্প), ৭০ শতাংশ (আবাসন সংকট দূর হবে), ৮৪ জন (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!