📌 ২৩ বছরের শিল্পী নিজের বাঁ কান কাটতে বসেন প্রতিবাদ হিসেবে, কিন্তু ভ্যান গঘের মতোই তারও কান কাটার পেছনে ছিল গভীর কারণ। কেন কান কাটা? কেন বাঁ কান? এবং কেন শিল্পী বিশ্বাস করেন যে কান হলো স্মৃতির গুদামঘর?
২৩ বছর শিল্পী হিসেবে জীবন যাপন করেও একজন শিল্পী একটাই ছবি বিক্রি করতে সক্ষম হন। তার নাম ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ। তার জীবনের এই একটা ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ঢাকার একজন শিল্পী নিজের বাঁ কান কাটতে বসেন। কিন্তু কেন কান কাটা? কেন বাঁ কান? এবং কেন শিল্পী বিশ্বাস করেন যে কান হলো স্মৃতির গুদামঘর?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ বছরের শিল্পী নিজের বাঁ কান কাটতে বসেন প্রতিবাদ হিসেবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বন্ধ করেন — কারণ কান হলো স্মৃতির গুদামঘর
- 📌 ভ্যান গঘের মতোই শিল্পী বিশ্বাস করেন, কান হলো সেই খোলা দরজা যা জীবনের সব শব্দ জমা করে — প্রিয় মানুষের ডাক থেকে শুরু করে অপমানের বাক্য পর্যন্ত
- 📌 শিল্পী ২৩ ডিসেম্বর তার কান কাটার পরিকল্পনা করলেও, পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটা রিল বানানোর ভাইরাল অডিও শুনে বন্ধ করেন — কারণ তার কান শুধু শিল্পের শব্দ শুনেছে
- 📌 শিল্পী বলেন, ‘আমার কান ২৩ বছর ধরে রঙের নাম, রবীন্দ্রসংগীত, বিটলস, পিংক ফ্লয়েড শুনেছে। অপরাধী তো তাদের কান যারা ওই খোলা দরজা দিয়ে শুধু ভাইরাল অডিও শুনে থাকেন’
📰 বিস্তারিত
২৩ বছর শিল্পী হিসেবে জীবন যাপন করলেও একজন শিল্পী একটাই ছবি বিক্রি করতে সক্ষম হন। তার নাম ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ। তার জীবনের এই একটা ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ঢাকার একজন শিল্পী নিজের বাঁ কান কাটতে বসেন। কিন্তু কেন কান কাটা? কেন বাঁ কান? এবং কেন শিল্পী বিশ্বাস করেন যে কান হলো স্মৃতির গুদামঘর?
শিল্পী বলেন, ‘আমার ঘরে ১১টা কান আছে। কাচের বয়ামে, সারি করে, জানালার দিকে, যেখানে সকালের রোদ পড়ে। ১১টাই বাঁ কান। কেন বাঁ কান, সেটা আপনি গল্পের মাঝামাঝি গেলে বুঝবেন। আর কেন সংখ্যাটা ১১-তে থেমে আছে, সেটা বুঝবেন শেষে গিয়ে। যদি শেষ পর্যন্ত যেতে পারেন। অনেকে পারে না। আমার গল্পটা আরামের নয়।’
শিল্পী নিজের পরিচয় দেন, ‘আমি ছবি আঁকি, ২৩ বছর ধরে। চারুকলার ডিগ্রি আছে, দুইটা গ্রুপ এক্সিবিশনের সার্টিফিকেট আছে, আর আছে একটা ঘরভর্তি না-বেচা ক্যানভাস। ২৩ বছরে আমি বিক্রি করেছি একটা ছবি—সাত হাজার টাকায়, এক এনজিওর অফিসের দেয়ালের জন্য, যেখানে ওটা এখন এসির পানির দাগের নিচে ঝুলছে।’
ভ্যান গঘের সঙ্গে শিল্পীর সম্পর্কটা ভক্তির নয়, আত্মীয়তার। শিল্পী বলেন, ‘ভ্যান গঘের জীবনী আমি মুখস্থ বলতে পারি। আর্লের হলুদ বাড়ি, যেখানে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন শিল্পীদের একটা সংসার হবে। গঘ্যাঁর সঙ্গে দুই মাসের সেই রোজ তর্ক, রোজ বন্ধুত্ব, রোজ ভাঙন। তারপর ১৮৮৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাত। গঘ্যাঁ চলে যাবেন শুনে মানুষটার মাথায় কী যেন ছিঁড়ে গেল, আর তিনি খুর হাতে নিজের বাঁ কানটা ছিন্ন করে আনলেন।’
শিল্পী ২৩ ডিসেম্বর তার কান কাটার পরিকল্পনা করলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক করেছিলাম, আমার শেষ শিল্পকর্মটা করব—ক্যানভাসে নয়। নিজের ওপর। ভ্যান গঘের মৃত্যুদিন নয়, কান কাটার রাতটাই আমার কাছে আসল তারিখ, কারণ ওই রাতেই শিল্পী আর দুনিয়ার মধ্যে বাঁধনের গিট্টুটা ছিঁড়ে গিয়েছিল চিরদিনের জন্য।’
শিল্পী ধারালো খুর কেনা হয়ে গিয়েছিল। আয়নার সামনে চেয়ার পাতা হয়েছিল। তারপর খুরটা যখন কানের কাছে, ঠিক তখন, দেয়ালের ওপাশ থেকে শব্দটা এল। পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটা রিল বানায়। সারা দিন। একই ১৫ সেকেন্ডের গান, একই ভাইরাল অডিও, ঘুরে ঘুরে, দিনে ৪০–৫০ বার। ওই মুহূর্তে, শিল্পীর জীবনের সবচেয়ে পবিত্র মুহূর্তে, দেয়াল ভেদ করে ঢুকল সেই অডিওটা, সেদিনের ৪৭ নম্বর বার। আর শিল্পীর হাতটা থেমে গেল।
"আমি ভুলটা ধরে ফেলেছি। আমি ভুল কান কাটতে বসেছিলাম। বিশ্বাস করেন, আমি ন্যায়বিচারক। প্রতিটি কান আমি রাতের পর রাত শুনেছি, খুঁজেছি, আসল কিছু পাই কি না। এক নম্বর বয়াম, রিল বানানো ইনফ্লুয়েন্সার মেয়েটা। ওর কানে তিন হাজার বার একই ভাইরাল গানের মিউজিক, ৩৩টা রিংটোনের মতো সুর, আর অন্যের শিল্প চুরি। এরপরে সাহিত্য পেজ চালানো মেয়েটা, যে ইংরেজি লেখা বাংলা করে নিজের নামে ছাপে। ওর কানে খালি নোটিফিকেশনের টুংটাং, হাজারে হাজারে, শিলাবৃষ্টির মতো। আমার কান তো নিরপরাধ। আমার কান ২৩ বছর ধরে রঙের নাম শুনেছে, রবীন্দ্রসংগীত শুনেছে, বিটলস শুনেছে, পিংক ফ্লয়েড শুনেছে, বৃষ্টি শুনেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: একজন ২৩ বছরের শিল্পী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (কান), ২৩ (বছর), ৪০০ (ফ্রাঁ), ৯৪ (মিলিয়ন ডলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!