📌 বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে আত্মপ্রকাশ করে। ৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার স্থাপনের স্বপ্ন নিয়ে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। পাঠাগারকে যুক্তিবোধের কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মকে বইপড়ায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আত্মপ্রকাশ করে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি জনপদে পাঠাগারকে যুক্তিবোধের চর্চাকেন্দ্রে পরিণত করা। ‘একটাই মন্ত্র জনগণতন্ত্র, একটাই যুক্তি শোষণমুক্তি’ এই স্লোগানে উদ্বোধনী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার স্থাপনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করে।
- 📌 ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত, সভাপতি নির্বাচিত হন শিক্ষাবার্তার সম্পাদক অধ্যাপক এ এন রাশেদা।
- 📌 ৮ হাজারাধিক সুপ্ত পাঠাগার পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়।
- 📌 শিশু-কিশোর ও মায়েদের পাঠাগার আন্দোলনে যুক্ত করার তাগিদ দেন লেখক ও অধ্যাপক আবু তাহের খান।
- 📌 পাঠাগারকে মুক্তচিন্তা ও সামাজিক পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা শোষণমুক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। আমাদের নবীন প্রজন্মই সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’ তিনি পাঠাগার আন্দোলনের সূচনাকে নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সঠিক ইতিহাস জানা এবং মানুষের মননশীলতা তৈরিতে পাঠাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই।
লেখক ও গবেষক নিতাই দাস বলেন, মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়িয়ে আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে মানুষ এখন গভীর পাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠাগারগুলোকেও সক্রিয় করে তুলতে হবে।
শিক্ষাবার্তা সাময়িকীর সম্পাদক এ এন রাশেদা বলেন, ‘সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পিছিয়ে পড়া ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাদের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা পাঠচর্চার অংশ করা দরকার। সাধারণ মানুষের সংকট ও লড়াই নিয়ে বই-পুস্তিকা প্রকাশ করা হলে পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।’
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘জ্ঞান হোক সবার, পাঠাগার হোক প্রতিটি জনপদে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে তাঁরা দেশের ৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা আট হাজারের বেশি সুপ্ত পাঠাগারকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন শিক্ষাবার্তার সম্পাদক অধ্যাপক এ এন রাশেদা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।
"আমরা শোষণমুক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। আমাদের নবীন প্রজন্মই সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক এম এম আকাশ, নিতাই দাস, এ এন রাশেদা, আবু তাহের খান, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৮ হাজার গ্রাম, ৭১ সদস্য, ৮ হাজারাধিক সুপ্ত পাঠাগার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!