📌 ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী বিজয়ের পর মার্কিন সমর্থন হারানোর নতুন যুগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ও ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে বিজয় ইসরাইলের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রচারণার বড় বড় পোস্টার এখনো দেশটির গণপরিবহনে শোভা পাচ্ছে। এসব পোস্টারে নেতানিয়াহু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুদ্ধবিমানের ছবি দিয়ে ইরানে যৌথ হামলার মাধ্যমে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে এখন আর এসব পোস্টার দুই দেশের জোটের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরছে না। নেতানিয়াহুর নির্বাচনী পরাজয়ের এক সপ্তাহ পর মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পকে বিপুলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস নির্বাচিত করেছেন। নতুন কংগ্রেস ইরান, গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বিষয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ও ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে বিজয় ইসরাইলের জন্য মার্কিন সমর্থন হারানোর নতুন যুগ শুরু করেছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান এবং মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের পরিবর্তনই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মূল কারণ।
- 📌 ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার ইসরাইলের বার্ষিক ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে নেতানিয়াহুর সাথে একমত হয়েছে।
- 📌 নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর হলে ইসরাইল ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করবে।
- 📌 বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট ইসরাইলের সাথে মার্কিন সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 ইসরাইলের বিশেষজ্ঞ ইয়েল স্টার্নহেল বলেছেন, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে।
📰 বিস্তারিত
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রচারণার বড় বড় পোস্টার এখনো দেশটির গণপরিবহনে শোভা পাচ্ছে। এসব পোস্টারে নেতানিয়াহু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুদ্ধবিমানের ছবি দিয়ে ইরানে যৌথ হামলার মাধ্যমে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে এখন আর এসব পোস্টার দুই দেশের জোটের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরছে না। নেতানিয়াহুর নির্বাচনী পরাজয়ের এক সপ্তাহ পর মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পকে বিপুলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস নির্বাচিত করেছেন। নতুন কংগ্রেস ইরান, গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বিষয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আশরক আল-আওসাতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরপর দুই দেশের নির্বাচনকে অনেক পর্যবেক্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরাইল আর আগের মতো নিশ্চিতভাবে পাবে না। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়েল স্টার্নহেল বলেছেন, ‘এটি একটি নতুন যুগ। গাজা যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ—এই দু’টি ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব মূলধারার মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। শুধু ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাত নিয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী ব্যক্তিরাই নন, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও এই পরিবর্তন এসেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভোটারদের আবার দলে ফেরানোর চারটি উপায় তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধের অবসান এবং ‘ইসরাইলের সাথে আমাদের সম্পর্ক’ পরিবর্তনের বিষয়টিও ছিল। ট্রাম্পও এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরাইলের বার্ষিক ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে নেতানিয়াহুর সাথে তিনি একমত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ইসরাইলের জন্য একটি বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নেতানিয়াহু প্রায় দুই দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে একইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান একঘরে হয়ে পড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর হলে তা এড়াতে ইসরাইলের ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকে পড়া উচিত।
বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট গঠনের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক পুনর্গঠনে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। আইজেনকট বলেছেন, তিনি ‘উদারনৈতিক মূল্যবোধে’ বিশ্বাস করেন এবং ট্রাম্পের সাথে ‘ঘনিষ্ঠ ও গঠনমূলকভাবে’ কাজ করতে চান। বামপন্থীদের প্রধান নেতা ইয়ার গোলানও ইসরাইলের দ্বিদলীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু এই সম্পর্ক ধ্বংস করেছেন এবং ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধ্বংসাত্মক ইসরাইলি বয়ান’ প্রচার করেছেন।
"এটি একটি নতুন যুগ। গাজা যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ—এই দু’টি ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব মূলধারার মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, গাজা, পশ্চিম তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, গাদি আইজেনকট, ইয়েল স্টার্নহেল, ইয়ার গোলান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮০ কোটি ডলার (মার্কিন সামরিক সহায়তা), ৬ নভেম্বর (মার্কিন নির্বাচনের পর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!