📌 চামড়াজাত পণ্যের ব্র্যান্ড ‘ওয়াইল্ড ওভেন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন দুই উদ্যোক্তা ফয়সাল ইসলাম ও এনামুল হক। অনলাইন থেকে শুরু করে রাজধানীর বনানীতে শোরুম চালু করা এই ব্র্যান্ডটি এখন জাপানেও পৌঁছাতে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও নৈতিক ব্যবসার আদর্শে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রযুক্তির ওয়ালেট থেকে শুরু করে চামড়ার জ্যাকেট পর্যন্ত বাজারে আনছে
বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হলেও দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পায়নি তা। এই অভাব পূরণে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করেন দুই উদ্যোক্তা ফয়সাল ইসলাম ও এনামুল হক। তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘ওয়াইল্ড ওভেন’ নামের একটি ব্র্যান্ড, যা এখন দেশের বাইরেও পৌঁছাতে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘ওয়াইল্ড ওভেন’ ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু ২০১৯ সালে ফয়সাল ইসলাম ও এনামুল হকের হাত ধরে
- 📌 প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত নতুন শোরুম থেকে পরিচালিত হচ্ছে
- 📌 ব্র্যান্ডটি ইতোমধ্যে জাপানে বিপণন শুরু করতে যাচ্ছে
- 📌 ওয়ালেটের নকশায় দেশীয় টাকার আকৃতি ও কার্ড রাখার সুবিধা বিবেচনা করা হয়েছে
- 📌 সামনের পকেটে রাখার উপযোগী ওয়ালেটের নকশা করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে
- 📌 ওয়ালেটে অ্যাপলের ‘এয়ার ট্যাগ’ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, যা হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বার্তা পাওয়া যাবে
- 📌 প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় বর্তমানে ৭০ জন কারিগর কর্মরত আছেন
- 📌 কারিগরদের পুষ্টিকর খাবার ও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে ওয়াইল্ড ওভেন
- 📌 অব্যবহৃত চামড়া থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়ার্কশপ পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি
- 📌 ‘হাইকু’ ওয়ালেটের নামকরণ করা হয়েছে জাপানি কবিতার তিন লাইন ও ১৭ অক্ষরের আদলে
📰 বিস্তারিত
ফয়সাল ইসলাম ও এনামুল হক দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁরা লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ও লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন যথাক্রমে ২০১৪ ও ২০১৩ সালে। দেশের চামড়াজাত পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি না থাকায় তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘ওয়াইল্ড ওভেন’। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত নতুন শোরুম থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
ওয়াইল্ড ওভেনের ওয়ালেটগুলো দেশীয় টাকার আকৃতি ও কার্ড রাখার সুবিধা বিবেচনা করে নকশা করা হয়েছে। ফয়সাল ইসলাম জানান, প্রচলিত ওয়ালেটগুলো দেশীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাঁরা ওয়ালেটের পেছনের খাঁজ কমিয়ে হালকা ও ব্যবহারোপযোগী নকশা করেছেন। সামনের পকেটে রাখার উপযোগী ওয়ালেটের নকশাও তাঁরা করেছেন, যা ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ওয়ালেটে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে। স্ক্যান-প্রতিরোধী ওয়ালেটের পাশাপাশি অ্যাপলের ‘এয়ার ট্যাগ’ রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে ওয়ালেট হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বার্তা পাওয়া যাবে। ওয়াইল্ড ওভেনের পণ্যের মধ্যে রয়েছে কার্ড হোল্ডার, পাসপোর্ট হোল্ডার, বেল্ট, ল্যাপটপ স্লিভ, রোদচশমার কেস, কলম ও ঘড়ি রাখার কেস। এছাড়া রয়েছে চাবির রিং এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার ব্যাগ। ছয়টি রঙে এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি শীঘ্রই চামড়ার জ্যাকেট বাজারে আনতে যাচ্ছে।
ওয়াইল্ড ওভেন কেবল ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, এটি একটি নৈতিক ও পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান। ফয়সাল ইসলাম বলেন, ‘যত দিন আমাদের পৃথিবী সুস্থ থাকবে, আমরা সুস্থ থাকব।’ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ পণ্য তৈরির প্রতিটি ধাপে পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় বর্তমানে ৭০ জন কারিগর কর্মরত আছেন। তাঁদের বেতনের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে ওয়াইল্ড ওভেন। অব্যবহৃত চামড়া থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়ার্কশপ পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের সেই চামড়া দেওয়া হয়, যা তাঁরা নতুন পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন।
ওয়াইল্ড ওভেনের একটি বিশেষ ওয়ালেটের নাম ‘হাইকু’, যা জাপানি কবিতার তিন লাইন ও ১৭ অক্ষরের আদলে তৈরি। ওয়াইল্ড ওভেনের আউটলেটে চলচ্চিত্রের দৃশ্য চলমান থাকে। ফয়সাল ইসলাম জানান, তাঁরা মানুষকে কেবল ক্রেতা হিসেবে দেখতে চান না, বরং তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জায়গা হিসেবেও প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তুলতে চান।
‘পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় আপনি যান, মেড ইন বাংলাদেশ ট্যাগ লাগানো পণ্য পাবেন। কিন্তু একটা মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড পাবেন না।’ — ফয়সাল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বনানী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়সাল ইসলাম, এনামুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ জন কারিগর, ১৭টি উপাদান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!