📌 হাওরবেষ্টিত নেত্রকোনার জগন্নাথপুর গ্রামের শুভ আহম্মেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে ৮০তম স্থান অধিকার করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কৃষক-ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ৩০ দিনের কঠোর পড়াশোনার মাধ্যমে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন
হাওরবেষ্টিত নেত্রকোনার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় নতুন নাম শুভ আহম্মেদ। তিনি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে ৮০তম স্থান অধিকার করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কৃষক-ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হিসেবে জগন্নাথপুর গ্রামের মেধাবী ছেলে শুভের জীবনের এই যাত্রা ছিল কঠিন সংগ্রামের গল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাওরের প্রত্যন্ত গ্রাম জগন্নাথপুরের শুভ আহম্মেদ ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে ৮০তম স্থান অধিকার করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন
- 📌 জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া শুভ ২০১৭ সালে এসএসসি ও ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ গড় অর্জন করেছেন
- 📌 ৩০ দিনের কঠোর পড়াশোনার রুটিনে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করে শুভ বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন
- 📌 বাবা-মা ও মামার সমর্থন ও আর্থিক সহায়তায় শুভের এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে
- 📌 মোবাইল নিয়ন্ত্রণর মাধ্যমে পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকে সমতুল্য রাখতে শুভ আলাদা ফোন ব্যবহার করেন
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনা জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলা খালিয়াজুরীর জগন্নাথপুর গ্রামের মেন্দিপুর ইউনিয়নের ধনু নদের তীরে অবস্থিত শুভ আহম্মেদের বাড়ি। এই গ্রামে বেড়ে উঠা শুভের বাবা একজন কাপড় ব্যবসায়ী ও কৃষক, মা গৃহিণী। বর্ষাকালে গ্রামগুলো দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ট্রলার বা নৌকা। বছরে অন্তত ছয় মাস পানিবন্দী অবস্থায় থাকতে হতো। এই কষ্টের মধ্য দিয়ে শুভের জীবনবোধ গড়ে উঠেছে।
ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিলেন শুভ। তিনি জগন্নাথপুর ময়েজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ওই বিদ্যালয় থেকে প্রথম জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হন। ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য ধরে রাখেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকার করে আইন বিভাগে ভর্তি হন শুভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শুভের লক্ষ্য ছিল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া। তিনি পড়াশোনায় শর্টকাট পদ্ধতি অনুসরণ করেননি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনার রুটিনে ৩০ দিনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বিসিএস ও বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। প্রতিদিনের পড়ার বিষয়গুলো আগে থেকে রুটিনের খাতায় লিখে রাখতেন। সকালে রিডিং রুমে পড়া শুরু করতেন এবং রাত ১২টার দিকে ফিরতেন। শুভের মতে, মোবাইল ও পড়াশোনা একসঙ্গে চলতে পারে না। তিনি আলাদা ফোন ব্যবহার করেন এবং দৈনিক এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইলে দেওয়া অনুচিত বলে মনে করেন।
"যখন রেজাল্ট প্রকাশ হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই আমার রোল খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। জীবনের সেরা মুহূর্ত ছিল এটি।"
বিচারক হওয়ার এই যাত্রায় শুভের মা-বাবা ও মামা তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা তাঁর আর্থিক সমস্যার বিষয়টিও সব সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করেন শুভ। তিনি বলেন, ‘আমার প্রচুর ফেসবুক আসক্তি আছে। তাই নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথপুর গ্রাম, নেত্রকোনা জেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শুভ আহম্মেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০তম স্থান (সিভিল জজ পদ), জিপিএ-৫ (এসএসসি ও এইচএসসি), ১০-১২ ঘণ্টা (দৈনিক পড়াশোনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!