📌 প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা সম্ভব। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির গুরুত্বও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ। কৃষি খাত, প্রযুক্তি, সেচ ব্যবস্থা, কৃষি অর্থায়ন ও পণ্যের বাজার সংযোগকে আরও সহজলভ্য করার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষি খাতের বিকাশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালীকরণই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করবে।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।
- 📌 বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অর্থায়নের দাবি করেছেন তিনি।
- 📌 বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসারিত করার কথা বলেছেন তিনি।
- 📌 ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবে।
- 📌 শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও নৈতিকতার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষিখাত। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার প্রযুক্তি, সেচ ব্যবস্থা, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগকে আরও সহজলভ্য করার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, বলেছেন তিনি।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের প্রয়োজন, উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ সব খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রেখেছেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবে। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।
পানি নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেছেন, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
"আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করছি। শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ (রোহিঙ্গা শরণার্থী), ১ লাখ (স্বাস্থ্যসেবাকর্মী), ৮০ শতাংশ (নারী কর্মী), ২০ হাজার কিলোমিটার (খাল ও জলপথ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!