📌 ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে। অবকাঠামোগত ঘাটতি, রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা এবং শ্রমিকদের কর্মহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে
ভোমরা স্থলবন্দরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকের আগমন কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের কর্মহীন সময় কাটছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টন পণ্য, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন কম
- 📌 রপ্তানি আয় কমেছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা — আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন কম পণ্য
- 📌 ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ভোমরা বন্দরের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা হলেও জুলাইয়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৯৮ কোটি টাকা
- 📌 ভোমরা বন্দর থেকে সাতক্ষীরা জেলা শহরের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার
- 📌 শ্রমিক আজিজুল ইসলাম জানান, কাজের অভাবে অনেক শ্রমিক অন্যত্র চলে যাচ্ছেন এবং মজুরিও কমে গেছে
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত রোববার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশ করছে। তবে পণ্য খালাস, পরিবহন এবং কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ব্যস্ত থাকলেও কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, কিছুদিন আগেও বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এতে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েন। তাঁর মতে, ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক পণ্য আনা সম্ভব হচ্ছে না।
ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। তবে জুলাই মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৯৮ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫০ শতাংশও পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
"এখন কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর মজুরিও কম। সংসার চলে না। অনেক শ্রমিক কাজের খোঁজে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। আগে যেভাবে আমদানি-রপ্তানি হতো, এখন আর তা হয় না।" — আজিজুল ইসলাম, স্থানীয় শ্রমিক
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান জানান, ভারত থেকে আমদানি করা কিছু কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বন্দরে ভারী ক্রেন, পর্যাপ্ত ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদাম সুবিধার ঘাটতিও বাণিজ্যের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোমরা বন্দরের তুলনায় ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরের অবকাঠামোগত অবস্থা দুর্বল হলেও ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোমরা স্থলবন্দর, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু মুসা, আজিজুল ইসলাম, নাসিম ফারুক খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ কিলোমিটার, ৯ আগস্ট, ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা, ৯৮ কোটি টাকা, ৫০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!