📌 টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞরা স্পেকট্রাম নীতিতে নতুন ভাবনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ
টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) বরাদ্দ নীতিতে নতুন ভাবনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাশ্রয়ী মূল্যে অধিক স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। স্পেকট্রামকে শুধুমাত্র সরকারি রাজস্ব আহরণের উৎস হিসেবে বিবেচনা না করে জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্পেকট্রাম নীতিতে নতুন ভাবনার আহ্বান জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা
- 📌 স্পেকট্রামকে জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ
- 📌 ২০০৮ সালে স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজস্ব আহরণ
- 📌 স্পেকট্রামের উচ্চমূল্য, সীমিত স্পেকট্রাম হোল্ডিং ও অপর্যাপ্ত ফাইবার অবকাঠামো খাতটির সেবার মানকে প্রভাবিত করেছে
- 📌 চলতি বছরের শেষ দিকে মোবাইল অপারেটরদের ব্যবহৃত ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নবায়ন অনুষ্ঠিত হবে
📰 বিস্তারিত
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেকটেড বাংলাদেশ: এনাব্লিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এই সংলাপের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মুনির হাসান বলেন, ২০০৮ সালে স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় ১৮ বছরের জন্য স্পেকট্রাম দেওয়া হয়েছিল এবং তখন থেকে এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্পেকট্রাম থেকে রাজস্ব আহরণ করা। তবে গত ১৫–১৮ বছরের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, টেলিযোগাযোগ খাত দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে—যেমন সীমিত স্পেকট্রাম হোল্ডিং, অপর্যাপ্ত ফাইবার অবকাঠামো, টাওয়ার সাইটে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং স্পেকট্রামের উচ্চমূল্য।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। স্পেকট্রাম নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল, সেবার সক্ষমতা এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে অংশীজনেরা বলেন, সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে স্পেকট্রাম বরাদ্দের মূল্য এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উন্নত ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে বিশ্বের অনেক দেশ ইতিমধ্যে স্পেকট্রামের মূল্য অর্ধেক বা তারও বেশি কমিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, টেলিকম নীতি ও স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নয়, গভীর বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে। দাম কমিয়ে তরঙ্গ যদি বিনা মূলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়, তখন মোবাইল অপারেটররা প্রণোদনা দেওয়ার দাবি তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) প্রেসিডেন্ট ও রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা বলেন, স্পেকট্রামের প্রকৃত মূল্য কেবল সরকারের রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা উচিত নয়; বরং এর মাধ্যমে যে উন্নত সংযোগ, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোর ভিত্তিতেই এর মূল্যায়ন করা উচিত।
"স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ অপারেটরদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মূলধন নেটওয়ার্কে বিনিয়োগের পরিবর্তে স্পেকট্রাম ফি পরিশোধে ব্যয় করতে বাধ্য করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সেবার মান এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।"
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে এবং সঠিক সমাধান ও করণীয় নির্ধারণে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, গত পাঁচ বছরে জাতীয় রাজস্ব কোষাগারে অবদান বেড়েছে, কিন্তু বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত রিটার্ন কমেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেহান আসিফ আসাদ, মুনির হাসান, এমদাদ উল বারী, জিয়াদ সাতারা, ইয়াসির আজমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর, ১৫–১৮ বছর, ৯০০, ১৮০০, ২১০০ মেগাহার্টজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!