📌 দেশের জীবন বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী লাইফের ২০২৫ সালের আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৫৬৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। অনাদায়ী বিনিয়োগ, সরকারি সিকিউরিটিজে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ঘাটতি ও অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা অতিক্রমের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে
দেশের জীবন বীমা খাতের একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ৫৬৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছেন কোম্পানির নিরীক্ষকরা। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী বিভিন্ন খাতে আটকে রয়েছে। এছাড়াও সরকারি সিকিউরিটিজে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি এবং অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা অতিক্রমের বিষয়গুলো বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫৬৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম** উঠে এসেছে প্রাইম ইসলামী লাইফের ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে
- 📌 **২১১ কোটি টাকার বেশি** অনাদায়ী অর্থ আটকে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন খাতে
- 📌 **২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার** সরকারি সিকিউরিটিজে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ঘাটতি
- 📌 **১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার** অতিরিক্ত বিনিয়োগ হয়েছে অনুমোদিত বিনিয়োগের সীমা অতিক্রম করে
- 📌 **১৮৮ কোটি ১১ লাখ টাকার** পাওনা অর্থ ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী রয়েছে
- 📌 **পিএফআই সিকিউরিটিজে ১৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা** বিনিয়োগ করা হলেও তা আদায় হয়নি
- 📌 **বাংলালায়নের ১০ শতাংশ কনভার্টিবল জিরো কুপন বন্ডে** ৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও মুনাফা ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা
📰 বিস্তারিত
প্রাইম ইসলামী লাইফের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ কাঠামোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, **২১১ কোটি টাকার বেশি** অর্থ বিভিন্ন অনাদায়ী খাতে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে **পিএফআই সিকিউরিটিজে ১৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা** বিনিয়োগ করা হলেও তা আদায় হয়নি। এছাড়াও অনাদায়ী মুনাফা, লভ্যাংশ ও ভাড়া বাবদ **৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা** রয়েছে। পিএফআই সিকিউরিটিজে আরও **১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা** বিনিয়োগ করা হলেও তা আদায় হয়নি। এসব অর্থের মোট পরিমাণ **১৮৮ কোটি ১১ লাখ টাকা** এবং এসব অর্থ **২০১৮ সাল থেকে** অনাদায়ী রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, **গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ঘাটতি** উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ **৭৮২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা**। বীমা বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি সিকিউরিটিজে **৩০ শতাংশ** অর্থাৎ **২৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা** বিনিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র **২৭ কোটি টাকা**। ফলে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে **২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা**।
তৃতীয়ত, **অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও** আইডিআরএর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিরো কুপন বন্ড, পিএফআইর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ, স্টার্লিং গ্রুপের বিনিয়োগসহ অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগের পরিমাণ **১৮৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা**। আইডিআরএর বিধিমালা অনুযায়ী, এ খাতে সর্বোচ্চ **৫ শতাংশ** পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। কিন্তু প্রাইম ইসলামী লাইফের বিনিয়োগ **১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা** অতিরিক্ত হয়েছে।
নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, **পলিসিহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের সক্ষমতা** সরাসরি এই বিনিয়োগের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের অর্থ আটকে থাকলে তা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তারল্য পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত, **বাংলালায়নের ১০ শতাংশ কনভার্টিবল জিরো কুপন বন্ডে** প্রায় **৪ কোটি টাকা** বিনিয়োগ করা হলেও মুনাফা **৩ কোটি ৬ লাখ টাকা**। বন্ডটির মেয়াদ **২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে** শেষ হয়ে গেলেও এখনো অর্থ আদায় হয়নি। ফলে এই বিনিয়োগ থেকে অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে নিরীক্ষকরা চিন্তিত।
"জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ থেকে আয় এবং সেই বিনিয়োগের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলিসিহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের সক্ষমতার সঙ্গে এসব সম্পদের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের অর্থ আটকে থাকলে তা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তারল্য পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেশের (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রাইম ইসলামী লাইফের নিরীক্ষকরা, পলিসিহোল্ডারদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬৫ কোটি টাকা (আর্থিক অনিয়ম), ২১১ কোটি টাকা (অনাদায়ী অর্থ), ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা (সরকারি সিকিউরিটিজে ঘাটতি), ১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা (অতিরিক্ত বিনিয়োগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!