📌 বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ১৫-১৬ শতাংশ ক্ষতি কমাতে সফল হয়েছে। গবেষণায় সংরক্ষণকালে পচন, ওজন হ্রাস ও গুণগত মানের অবনতি কমাতে সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর আমদানি করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) গবেষকরা আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিপুল সাফল্য পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিটি ব্যবহারে সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫-১৬ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাকৃবির গবেষকরা আইওটি প্রযুক্তি দিয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ১৫-১৬ শতাংশ ক্ষতি কমাতে সফল
- 📌 গবেষণায় সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে পচন ও ওজন হ্রাস কমানো হয়েছে
- 📌 ২০২৫ সালের মার্চে ইউজিসি অর্থায়নে শুরু হওয়া গবেষণাটি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে
- 📌 দেশে বার্ষিক পেঁয়াজ উৎপাদন ৪২ দশমিক ৬৪ লাখ টন, চাহিদা ৩৫-৩৬ লাখ টন
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর আমদানি করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন। গবেষণাটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাকৃবির আইসিটি সেলের পরিচালক এবং কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী। তাঁর সঙ্গে গবেষণায় অংশ নিচ্ছেন সহকারী গবেষক নাফিস সাদিক সায়েম এবং স্নাতক শিক্ষার্থী রাহাত মিয়া।
২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে শুরু হওয়া গবেষণাটি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো তুলনামূলকভাবে কম খরচে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ড. রোস্তম আলী বলেন, ‘দীর্ঘসময় পেঁয়াজ ভালো রাখতে তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব পরিবেশগত পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পচন, ওজন হ্রাসসহ অন্যান্য ক্ষতি কমানোই এ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য।’
গবেষণায় সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরের পরিবেশে পরিবর্তন দেখা দিলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। প্রযুক্তিটির নকশায় এয়ারফ্লো ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যানের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
"গবেষণায় সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরের পরিবেশে পরিবর্তন দেখা দিলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। প্রযুক্তিটির নকশায় এয়ারফ্লো ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যানের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।"
গবেষণায় পেঁয়াজ কত দিন সংরক্ষণ করা যাচ্ছে, তার পাশাপাশি সংরক্ষণকালীন ওজন হ্রাস, পচন ও গুণগত মানের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংরক্ষণ পরিস্থিতিতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ ও তুলনা করে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করছেন গবেষকেরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলছেন তাঁরা। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আইওটি-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫-১৬ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. রোস্তম আলী, নাফিস সাদিক সায়েম, রাহাত মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫-১৬ শতাংশ (ক্ষতি কমে), ৪২ দশমিক ৬৪ লাখ টন (উৎপাদন), ৩৫-৩৬ লাখ টন (চাহিদা), ৮৬ হাজার টন (আমদানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!