📌 কুড়িগ্রামের চারটি লোকাল ট্রেন বন্ধের ফলে দারিদ্র্য বেড়েছে। ট্রেনের বদলে ট্রাকের খরচে কৃষক ও শ্রমিকরা চাকরি হারিয়েছে। রেললাইন তুলে ফেলার পেছনে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা রয়েছে
বাংলাদেশের দারিদ্র্যের শীর্ষে অবস্থানকারী কুড়িগ্রাম জেলায় একসময় চারটি লোকাল ট্রেন চলত। ভোর ৪টায় পার্বতীপুর হয়ে চিলাহাটি, সকাল ১০টায় রমনা থেকে লালমনিরহাট, দুপুর ১টায় সান্তাহার এবং রাত ১০টায় লালমনিরহাট পর্যন্ত ট্রেন চলত। এখন সবকটি বন্ধ। এরই মধ্যে ট্রেন ফেরি-সংযোগে বাহাদুরাবাদেও যাতায়াত করত। চিলমারী বন্দরের গৌরবের সঙ্গেও ট্রেনের সম্পর্ক ছিল। ট্রেন বন্ধের ফলে জেলার দারিদ্র্য আরও বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের চারটি লোকাল ট্রেন বন্ধের ফলে দারিদ্র্য বেড়েছে, কৃষক ও শ্রমিকরা চাকরি হারিয়েছে
- 📌 ট্রেনের বদলে ট্রাকের খরচে কৃষক ৫ কেজি আদা বা শর্ষে বিক্রি করতে পারছেন না
- 📌 স্থানীয় নেতাদের দাবিতে রেললাইন তুলে ফেলা হয়, যার ফলে পুরান কুড়িগ্রাম, টগরাইহাট ও বালাবাড়িহাট স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 রেলের ডিজি ও সচিবের দাবি, লোকোমোটিভ ও লোকোমাস্টারের সংকটের কারণে ট্রেন চালু হবে না
- 📌 ৪০ বছর আগে ৪০ টাকায় পার্বতীপুর যাওয়া যেত, এখন ট্রেন না থাকায় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে
📰 বিস্তারিত
কুড়িগ্রামের চারটি লোকাল ট্রেন বন্ধের ফলে জেলার অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এরশাদ সরকারের পতনের পরও চারটি ট্রেন চলত, কিন্তু স্থানীয় নেতাদের দাবিতে রেললাইন তুলে ফেলা হয়। এর ফলে পুরান কুড়িগ্রাম, টগরাইহাট ও বালাবাড়িহাট স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রাপুর থেকে সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথও উঠে গেছে। মালবাহী ট্রেনের লাইন তুলে ফেলা হয়, যার ফলে রেলভিত্তিক গোডাউনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে।
১৯৪০ সালের বাংলা ভ্রমণ বইয়ে দেখা যায় যে কোনো স্টেশন কোনো পণ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। আগে ৪০ টাকায় পার্বতীপুর বা সান্তাহার যাওয়া যেত, কিন্তু ট্রেন না থাকায় এখন ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে। ট্রেনে একজন কৃষক ৫ কেজি আদা, শর্ষে বা বাদাম; একজন কুমার মাটির পাত্র; একজন কারিগর ৫টি শীতলপাটি বা ৫০টি চাটাই নিয়ে সহজেই রংপুর শহরে যেতে পারতেন। কিন্তু ট্রাকভাড়ার খরচে তা সম্ভব নয়।
ট্রেনের বদলে ট্রাক এসে মধ্যস্বত্বভোগীর বাহাদুরি বাড়িয়ে দেয়। কৃষিকাজ আর লাভজনক থাকল না। কৃষকেরা শ্রমিকে রূপান্তরিত হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলে যায়। অনাবাদি রইল উর্বর চরাঞ্চল। এখন শহরের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা চরের জমি লিজ নিয়ে চাষ করছেন।
লোকাল ট্রেনগুলো কবে চালু হবে, জানতে চাইলে রেলের ডিজি ও সচিবের একই উত্তর—লোকোমোটিভ ও লোকোমাস্টারের সংকট। ৪০ বছর কেটে গেলেও কোনো কথা রাখা হয়নি। একটি গণ-অভ্যুত্থান হলেও আশা পূরণ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার গেল, বিএনপি সরকারও এল, কিন্তু ট্রেন চালু হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
"লোকোমোটিভ ও লোকোমাস্টারের সংকট কাটলেই ট্রেন চালু হবে। ৪০ বছর কেটে গেল; কেউ কথা রাখল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম, রংপুর, পার্বতীপুর, সান্তাহার, চিলাহাটি, লালমনিরহাট, বাহাদুরাবাদ, চিলমারী, যাত্রাপুর, সোনাহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এরশাদ, কৃষকেরা, কুমার মাটির, স্থানীয় নেতারা, রেলের ডিজি ও সচিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪টি ট্রেন, ৪০ বছর, ৪০ টাকা, ১৫০-২৫০ টাকা, ৫ কেজি, ৫টি, ৫০টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!