📌 জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, অলিগার্কদের প্রভাব ছাড়াই অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি ব্যাংক খাতের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পড়া অবস্থা ও অর্থনীতির লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরেছেন। এছাড়াও, ব্যাংকিং খাতে ৪ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি অলস তারল্য জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ বরকত-এ-খোদা
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, অলিগার্কদের প্রভাব ছাড়াই অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা লাইনচ্যুত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি নদীতে পড়তে পারে। মাহবুব উল্লাহের মতে, বাংলাদেশ শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে শোষণ সাধারণ জনগণের নয়, বরং স্বল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের জন্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, অলিগার্কদের প্রভাব ছাড়াই অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব নয় এবং বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা লাইনচ্যুত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও খারাপ হতে পারে।
- 📌 ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পড়েছে এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি।
- 📌 ৪ ট্রিলিয়ন টাকা অলস তারল্য জমা হয়েছে ব্যাংকিং খাতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 বরকত-এ-খোদা বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল সুশাসন, নমনীয় নীতিমালা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি।
- 📌 অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে আনুমানিক পাঁচ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে এবং আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, ‘অলিগার্কদের প্রশ্রয় না দিলে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো যাবে না’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন লাইনচ্যুত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি নদীতে পড়তে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে শোষণ সাধারণ জনগণের নয়, বরং স্বল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের জন্য। তিনি বলেন, ‘এই শোষণ কার জন্য? এই শোষণ সাধারণ জনগণের জন্য নয়; এই শোষণ স্বল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বা কোটিপতির জন্য, যাদের আমরা অলিগার্ক বলি। এ দেশে এই অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে খোদ রাষ্ট্র নিজেই।’
ব্যাংকিং খাতের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যাংক আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমাদের ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত দুর্বল, ভঙ্গুর। এটি প্রায় বিলুপ্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাজারের নিয়ম মেনে চললে অনেক ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে যেত, কিন্তু নানা উপায়ে তাদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আস্থার সংকটকে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে এত বেশি অনিয়ম হয়েছে যে অধিকাংশ মানুষই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।’
অর্থনীতিবিদ বরকত-এ-খোদা বলেছেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে বিপরীতমুখী চাপ রয়েছে। একদিকে কিছু দুর্বল ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে রেকর্ড পরিমাণ অলস তারল্য জমা হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে অলস তারল্যের পরিমাণ বেড়ে ৪ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি রেকর্ড গড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। তিনি আরও বলেন, অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল সুশাসন, নমনীয় নীতিমালা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি।
বরকত-এ-খোদা আরও জানান, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে আনুমানিক পাঁচ লাখ কোটি টাকা ভুয়া ঋণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ কোটি টাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বিদেশে পাচার করেছে। ব্যাংকের পরিচালক ও অলিগার্করা নীতিমালা বিকৃত করে উপযুক্ত জামানত বা পরিশোধের সদিচ্ছা ছাড়াই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
"আমাদের ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত দুর্বল, ভঙ্গুর। এটি প্রায় বিলুপ্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মিরপুরে (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বরকত-এ-খোদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ ট্রিলিয়ন টাকা (অলস তারল্য), ৩৯ শতাংশ (বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!