📌 বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নার্স, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও কারিগরি কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের ৭৮% বিদেশগামী কর্মী স্বল্পদক্ষ হওয়ায় এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অর্থনীতিতে বিপুল পরিবর্তন আসতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি অপরিহার্য
বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দক্ষ কর্মী সংকটের সুযোগে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে নার্স, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও কারিগরি কর্মীদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ৭৮% স্বল্পদক্ষ বা আধা-দক্ষ হওয়ায় এই আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে বিপুল পরিবর্তন আসতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের ১৬টি খাতে ৮ লাখ ২০ হাজার দক্ষ বিদেশি কর্মী নিতে চায় জাপান, ২০২৯ সালের মধ্যে — বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ
- 📌 বাংলাদেশের ২০২৫ সালের ১১ লাখ ২৮ হাজার বিদেশগামী কর্মীর মধ্যে ৭৮% স্বল্পদক্ষ বা আধা-দক্ষ
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৩ সালে নার্সের ঘাটতি ছিল ৫৮ লাখ, ২০৩০ সালে কমে ৪১ লাখে নামতে পারে
- 📌 বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি অপরিহার্য
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, কিন্তু কর্মীদের দক্ষতার ঘাটতি অর্থনৈতিক সুযোগ হ্রাস করছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বজুড়ে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, শিল্প উৎপাদন ও কারিগরি পেশায় এই সংকট প্রকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে নার্সের ঘাটতি ছিল প্রায় ৫৮ লাখ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই ঘাটতি কমে ৪১ লাখে নামতে পারে, তবে আফ্রিকা ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সংকট বেশি থাকবে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের দেশগুলিতে বিপুলসংখ্যক নার্স অবসরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। জাপানেও স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্ক মানুষের পরিচর্যায় কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। দেশটির শিল্পোদ্যোগী সংগঠন এনবিসিসির হিসাবে, আগামী বছরগুলোতে চার লাখের বেশি নার্সিং কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশেও ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, কার্পেন্টার ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদদের চাহিদা রয়েছে। জাপান ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১৬টি খাতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি দক্ষ কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। নির্মাণ, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বয়স্কসেবা এসব খাতের মধ্যে রয়েছে। যদিও পরবর্তী নীতিগত পরিবর্তনে এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধিত হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি অপরিহার্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদ ও শ্রমবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু শিক্ষিত জনসংখ্যা নয়, উৎপাদনশীল ও দক্ষ জনশক্তিই হতে পারে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকা শক্তি।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে যান। ২০২৫ সালে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন। তাদের মধ্যে ৪৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ স্বল্পদক্ষ এবং ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ আধা দক্ষ। দক্ষ কর্মী ছিলেন মাত্র ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। পেশাজীবীর হার ছিল আরও কম, মাত্র ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিদেশে যাওয়া প্রতি ১০০ কর্মীর মধ্যে প্রায় ৭৮ জনই স্বল্পদক্ষ বা আধা-দক্ষ। দক্ষতার এই ঘাটতির প্রভাব পড়ে কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগে। প্রশিক্ষিত কর্মীরা সাধারণত তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারেন।
"বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর সংকট প্রকট। বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অর্থনীতিতে বিপুল পরিবর্তন আসতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থনীতিবিদ, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ লাখ ২০ হাজার (জাপানের লক্ষ্যমাত্রা), ৫৮ লাখ (নার্সের ঘাটতি ২০২৩), ১১ লাখ ২৮ হাজার (বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মী ২০২৫)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!