📌 চীনে প্রথমবারের মতো প্রবীণদের সংখ্যা শিশুদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় চাপ বাড়ছে। একদিনের জনমিতিক সুবিধা থেকে বেরিয়ে এসে চীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে
চীনে জনসংখ্যার কাঠামো বদলে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো দেশটিতে প্রবীণদের সংখ্যা শিশুদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। বিবিসির খবরে জানা গেছে, এই পরিবর্তন চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনে প্রথমবারের মতো ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের সংখ্যা (২২ কোটি ৩০ লাখ) শিশুদের (২১ কোটি) চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।
- 📌 কর্মক্ষম প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত ২৩ শতাংশ, শিশুদের ২২ শতাংশ — মাত্র ১ শতাংশীয় ব্যবধান হলেও অর্থনীতিতে তাৎপর্য বহন করে।
- 📌 এক সন্তান নীতির কারণে নতুন প্রজন্মের সংখ্যা কমে গেছে, কিন্তু গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়েছে।
- 📌 পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যার ব্যয় বাড়ার কারণে সরকার ও পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- 📌 হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক স্টুয়ার্ট গিয়েটেল বাস্টেন বলেছেন, জনসংখ্যার এই পরিবর্তন সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার বদলে দিতে পারে।
📰 বিস্তারিত
চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে একসময় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল মূল চালিকা শক্তি। কিন্তু এখন সেই সুবিধা হারিয়ে যাচ্ছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উৎপাদন, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাচ্ছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ। এই পরিবর্তন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের এই জনমিতিক পরিবর্তন একদিনের ঘটনা নয়। ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চীনে এক সন্তান নীতি কার্যকর ছিল। এই নীতি জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ছিল। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এক সন্তান নীতির কারণে আগের তুলনায় ৪০ কোটি জনসংখ্যা কমে গেছে। তবে একই সময়ে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতি ও মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের ওপর প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব বাড়ছে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক মু ঝেং মনে করেন, এই জনমিতিক পরিবর্তন চীনের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে গেলে প্রবৃদ্ধি সীমিত হতে পারে। প্রবীণদের দেখাশোনায় পরিবারের ব্যয় বাড়ার কারণে অন্যান্য পণ্য ও সেবায় ব্যয় করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
"জনসংখ্যার এই পরিবর্তন প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এর ফলে সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার বদলে যেতে পারে। পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।"
— স্টুয়ার্ট গিয়েটেল বাস্টেন, হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্টুয়ার্ট গিয়েটেল বাস্টেন, মু ঝেং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ কোটি ৩০ লাখ (৬৫+ বয়সী), ২১ কোটি (১৪ বছরের কম), ২৩% (কর্মক্ষম প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬৫+), ১৬% (মোট জনসংখ্যার ৬৫+)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!