📌 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মার্জিন বিধিমালা-২০২৫-এর সংশোধনী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নতুন বিধিমালায় মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ, জীবনবীমা কোম্পানির জন্য পিবি অনুপাত বিবেচনা এবং বিশেষ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা বাতিলসহ বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ঋণ ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত মার্জিন বিধিমালা-২০২৫-এর সংশোধনী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সংশোধিত বিধিমালাটি প্রকাশিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্জিন বিধিমালা-২০২৫-এর সংশোধনী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে
- 📌 নতুন বিধিমালায় মার্জিন ঋণের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:১
- 📌 জীবনবীমা ব্যতীত অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারে পিই ৪০-এর বেশি হলে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না
- 📌 জীবনবীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে, যা ৩-এর বেশি হলে মার্জিন সুবিধা পাওয়া যাবে না
- 📌 মার্জিন অর্থায়নের জন্য গ্রাহকের হিসাবে ন্যূনতম তিন লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে
- 📌 ‘জেড’, ‘এন’, ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার এবং এসএমই বোর্ডের শেয়ারে মার্জিন সুবিধা বাতিল
- 📌 মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে গ্রাহককে আগাম নোটিস প্রদান করতে হবে
- 📌 কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিনের ২০ শতাংশের বেশি একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে পারবে না
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্জিন বিধিমালা-২০২৫-এর সংশোধনী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। গত সোমবার রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই বিধিমালা কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নতুন বিধিমালায় মার্জিন ঋণের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:১। এর অর্থ হলো, বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। তবে জীবনবীমা ব্যতীত অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে সেই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে ইপিএস ঋণাত্মক হলে শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে। জীবনবীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে, যা ৩-এর বেশি হলে মার্জিন সুবিধা পাওয়া যাবে না। এছাড়া এনএভি ঋণাত্মক হলে সেই শেয়ারেও মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।
মার্জিন অর্থায়নের জন্য গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম তিন লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। কোনো গ্রাহক নিজস্ব নগদ অর্থের পরিবর্তে মার্জিন অর্থায়নের অযোগ্য সিকিউরিটি ক্রয় করলে সেই সিকিউরিটির মূল্যকে মার্জিন অর্থায়নের জন্য ইক্যুইটি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
নতুন বিধিমালায় মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে গ্রাহককে আগাম নোটিস প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন ঋণদাতা আগাম নোটিস প্রদান করবে। ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে কোনো আগাম নোটিস ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া লিখিতভাবে, ই-মেইল বা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে ফোন কলের মাধ্যমেও গ্রাহককে জানানো যাবে।
সংশোধিত বিধিমালায় ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার, এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলো মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র স্টক এক্সচেঞ্জের মূল মার্কেটের তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার মার্জিন সুবিধা পাবে।
এছাড়া মার্জিন অর্থায়নকারীদের ঝুঁকি কমাতে একক সিকিউরিটিতে এক্সপোজারের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে পারবে না। মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে যদি কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করে। মার্জিন অর্থায়নকৃত অর্থ শুধুমাত্র মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি ক্রয়ের কাজেই ব্যবহার করা যাবে।
"বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গেজেট প্রকাশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিধিমালাটির সংশোধনী কার্যকর হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবুল কালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১:১ (মার্জিন অনুপাত), ৪০ (পিই অনুপাত), ৩ (পিবি অনুপাত), ৫০ শতাংশ (ইক্যুইটি সীমা), ২৫ শতাংশ (ইক্যুইটি সীমা), ২০ শতাংশ (এক্সপোজার সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!