📌 খুলনার চুইঝালের বাণিজ্যিক মূল্য শতকোটি টাকারও বেশি। গবেষণায় এর জীবাণুনাশক ও ক্যানসার-প্রতিরোধী গুণাবলী প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার কেজির বেশি বিক্রি হয়, দামও বেড়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে
খুলনার বড় বাজারের মসলাপট্টি আজ একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মসলা চুইঝালের বাণিজ্যিক মূল্য শতকোটি টাকারও বেশি। এই স্থানীয় মসলা, যা পানের নিকটাত্মীয় হলেও মরিচ নয়, বর্তমানে খুলনা ও যশোর অঞ্চলের মানুষের বাড়িতে থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার বড় বাজারে প্রতিদিন **১০০০ কেজি** চুইঝাল বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য **১০-১৫ লাখ টাকা**। বাজারের আকার বাস্তবে **শতকোটি টাকারও বেশি**।
- 📌 **২০২৪-২৫ অর্থবছরে** চুইঝালের উৎপাদন **৬০০ টন** ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ছয় বছরে **২.৫ গুণ** বেড়েছে।
- 📌 **১৯৭০-এর দশকে** প্রতি কেজি চুই **২ টাকা** দামে বিক্রি হতো, বর্তমানে **১ হাজার ২০০ টাকা** থেকে **১ হাজার ৮০০ টাকা** পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়।
- 📌 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় চুইঝালের নির্যাসে **জীবাণুনাশক, ব্যথানাশক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার-কোষ প্রতিরোধী** উপাদান পাওয়া গেছে।
- 📌 **খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর**ের তথ্য অনুযায়ী, চুইঝালের চাষ বাড়ার সাথে সাথে **আম, কাঁঠাল বা মেহগনি** গাছের আশ্রয়ে সাথি ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে।
- 📌 **শিল্প মন্ত্রণালয়** ২০২৪ সালে প্রস্তুতকৃত **১৫১টি জিআই পণ্যের তালিকায়** খুলনার চুইঝাল অন্যতম।
📰 বিস্তারিত
খুলনার বড় বাজারের মসলাপট্টিতে চুইঝালের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন **১৫টি দোকান** শুধু চুই বিক্রি করে, যার বাইরে অন্যান্য মসলার দোকানেও চুই পাওয়া যায়। এই মসলা, যা **গরু, খাসি বা হাঁসের মাংস** রান্নায় বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, এখন **লোকজ চিকিৎসায়**ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য, সর্দি-কাশি ও হজমের সমস্যা দূর করতে এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় চুইঝালের নির্যাসে **জীবাণুনাশক, ব্যথানাশক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার-কোষ প্রতিরোধী** উপাদানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই গবেষণাগুলি **২০২০ ও ২০২২** সালে প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে, চুইঝালের দাম **৮০০ টাকা** থেকে **১ হাজার ৮০০ টাকা** পর্যন্ত বেড়েছে। **প্রবীণ ক্রেতা অবনীন্দ্রনাথ কুমার** জানান, আশির দশকে প্রতি কেজি চুই মাত্র **২ টাকা** দামে বিক্রি হতো।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, **২০২৪-২৫ অর্থবছরে** চুইঝালের উৎপাদন **৬০০ টন** ছাড়িয়ে গেছে। গত ছয় বছরে উৎপাদন **২.৫ গুণ** বেড়েছে। কেজিপ্রতি গড় দাম **১ হাজার ২০০ টাকা** ধরে হিসাব করলে বাজারের আকার **৭০ কোটি টাকা** ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, বাস্তবে বাজার **শতকোটি টাকারও বেশি**।
চুইঝালের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে চাষও বাড়ছে। **খুলনার নার্সারিগুলোতে** চারা বিক্রির পরিমাণ **২-৩ হাজার** থেকে বেড়ে **৫০-৬০ হাজারে** দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও, **কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর ও ঝিনাইদহ**েও বাণিজ্যিকভাবে চুইয়ের চাষ শুরু হয়েছে।
"চুইঝালের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে আম, কাঁঠাল বা মেহগনি গাছের আশ্রয়ে সাথি ফসল হিসেবে চাষ বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা বড় বাজার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রবীণ ক্রেতা অবনীন্দ্রনাথ কুমার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০০ কেজি (দৈনিক বিক্রি), ১০-১৫ লাখ টাকা (দৈনিক বাজার), ৬০০ টন (২০২৪-২৫ উৎপাদন), ২.৫ গুণ (উৎপাদন বৃদ্ধি), ১ হাজার ২০০ টাকা (গড় দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!