📌 বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস) গবেষণায় পেয়েছে, উত্তরা খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যেখানে নিকুঞ্জে মাত্র ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে। গবেষণায় দেখা গেছে, গণপরিবহনের ৮০% বাসই যাত্রী পরিবহনের অনুপযোগী
ঢাকার বায়ুদূষণে এলাকাভিত্তিক বিশাল পার্থক্য রয়েছে। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস) গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরা খালপাড়ের বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যেখানে নিকুঞ্জ এলাকায় মাত্র ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে। অর্থাৎ মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে বায়ুদূষণের মাত্রায় চার গুণেরও বেশি পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তরা খালপাড়ে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যা নির্ধারিত মানের চার গুণ বেশি
- 📌 নিকুঞ্জ এলাকায় পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে — রাজধানীর সবচেয়ে নির্মল বাতাস
- 📌 যমুনা ফিউচার পার্কে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১১৭ মাইক্রোগ্রাম, পিএম ১০-এর ৫৫৭ মাইক্রোগ্রাম
- 📌 উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কপথে বায়ুদূষণ সর্বোচ্চ
- 📌 পরীক্ষিত ১০টি বাসের মধ্যে ৮টি যাত্রী পরিবহনের অনুপযোগী — কোনো বাসই সবুজ কার্ড পায়নি
- 📌 ট্রাফিক পুলিশ ও গণপরিবহনের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসেন
📰 বিস্তারিত
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস) গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরা খালপাড়ের বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১৪৪ মাইক্রোগ্রাম, যা বাংলাদেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত মান ৩৫ মাইক্রোগ্রামের চার গুণ বেশি। অন্যদিকে, নিকুঞ্জ এলাকায় প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে — যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশক মানও অতিক্রম করে না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যমুনা ফিউচার পার্কে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১১৭ মাইক্রোগ্রাম এবং পিএম ১০-এর মাত্রা ৫৫৭ মাইক্রোগ্রাম। মালিবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে বায়ুদূষণের উচ্চমাত্রা লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণায় সড়কের ধুলা ও গাড়ির কালো ধোঁয়াকে দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও গণপরিবহনের যাত্রীরা সরাসরি এসব দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসেন। ক্যাপসের গবেষক দল লোকাল বাসে উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী এবং যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা যাতায়াত করে বাসের ভেতরের বায়ুমান পরীক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষিত ১০টি বাসের মধ্যে ৮টি যাত্রী পরিবহনের অনুপযোগী। এসব বাসকে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি বাস পেয়েছে হলুদ কার্ড। কোনো বাসই সবুজ কার্ড পায়নি।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সাবেক পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক জিয়াউল হক বলেছেন, সড়কে পানি ছিটানো এবং উন্মুক্ত মাটিতে ঘাস লাগানোর ব্যবস্থা করলে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ সময় বিভিন্ন মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়, ফলে তারা বায়ুদূষণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। বিশেষ করে মোড়গুলোতে যানজট তৈরি হলে বায়ুমানের আরও অবনতি ঘটে।
"ঢাকা শহরের লক্ষাধিক মানুষ গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। গণপরিবহনের ভেতরের বায়ুমানের পরিস্থিতি কেমন, তা জানতে এটাই প্রথম উদ্যোগ। এ উদ্যোগে ক্যাপসকে সহযোগিতা করছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরা খালপাড়, নিকুঞ্জ, যমুনা ফিউচার পার্ক, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী (ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, জিয়াউল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পিএম ২.৫ (১৪৪ মাইক্রোগ্রাম), পিএম ১০ (৮১৩ মাইক্রোগ্রাম), ২৭ কিলোমিটার, ৮টি বাস (লাল কার্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!