📌 ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা ভিত্তিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বজায় রাখতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাসের ঘাটতি ও শৃঙ্খলাহীনতা ব্যবসায়িক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে
বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সাক্ষী হয়ে উঠেছেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। ৩৬ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার অধিকারী এই উদ্যোক্তা বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বজায় রাখতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান অবস্থায় ব্যবসায়িক সম্ভাবনার জায়গাগুলো শুধু কল্পনা থেকে বেশি কিছু নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেছেন, ১৯৯০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্যবসায়িক পরিবেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, উচ্চ সুদ এবং শৃঙ্খলাহীনতা প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 ৩৬ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা উন্নত হলেও অবকাঠামোগত সমস্যা (বিদ্যুৎ, গ্যাস) এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
- 📌 চীনের বিনিয়োগকারী বলেছেন, বাংলাদেশে কারখানায় জেনারেটর ব্যবহার করতে হয় না, কারণ ২৫ বছরের মধ্যে লোডশেডিং হয়নি — যা সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরকে চিন্তিত করেছে।
- 📌 নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের অভাব বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তিনি বলেছেন, “আমরা এখন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই, কিন্তু সেটার কোনো আইনগত পরিণতি নেই।”
- 📌 ব্যবসায়িক সম্ভাবনার জায়গাগুলো শুধু কল্পনা থেকে বেশি কিছু নয়, কারণ বর্তমান অবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ১৯৯০ সালে ২২ বছর বয়সে এপেক্স ফুটওয়্যারে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “চাকরির শুরুতে আমার কাজ ছিল রপ্তানিমুখী কারখানার নির্মাণ তদারকি করা। ৩৬ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, উচ্চ ব্যাংক সুদ এবং শৃঙ্খলাহীনতা এখনও প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।”
তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৯০-এর দশকে অর্থনীতির আকারের তুলনায় অবকাঠামো ছিল অপ্রতুল। এখন অর্থনীতির আকার ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হলেও, অবকাঠামোগত ঘাটতি এখনও বিদ্যমান। তিনি বলেন, “চীনের এক বিনিয়োগকারী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনার দেশে কারখানায় জেনারেটর কেন লাগে?’ আমি বললাম, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে।’ তিনি বললেন, ‘আমি ২৫ বছরের মধ্যে লোডশেডিং ভুলে গেছি’। এটা আমাকে খুব চিন্তিত করেছে।”
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেছেন, “আমরা যখন গ্যাসের জেনারেটর কিনেছিলাম, তখন চার কোটি টাকা খরচ করেছিলাম। কিন্তু গ্যাস পাওয়ার সমস্যা থাকায় সেটি একদিনও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। শেষে খুব কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি।” তিনি উল্লেখ করেছেন, “লোকবল আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি আমাকে ভাবাচ্ছে।”
তিনি বলেছেন, “ব্যবসায় সবচেয়ে উন্নতি হয়েছে মানুষের কর্মক্ষমতা। ৩৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু বর্তমানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অভাব আমাদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
"আমরা এখন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই, কিন্তু সেটার কোনো আইনগত পরিণতি নেই। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ বছর (ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা), ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আকার), ২৫ বছর (চীনের বিনিয়োগকারীর লোডশেডিং মুক্ত সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!