📌 টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জের ১৭১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতের কর্মকাণ্ড দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে
হবিগঞ্জ জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানায় টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল শনিবার সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে উদ্যোক্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হবিগঞ্জের ১৭১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে
- 📌 গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা
- 📌 প্রায় ২০ দিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের কারণে জেলার শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল
- 📌 গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ আগস্ট থেকে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত ছিল
- 📌 গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেড় লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে
📰 বিস্তারিত
জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডের (শাহজিবাজার) ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গনি জানান, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে হবিগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোর লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, হবিগঞ্জ লাইনে এখন গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এলএনজি সরবরাহ ঠিক থাকলে তা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে প্রায় ২০ দিন ধরে হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট চলছিল। শুরুতে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হলে কোনোভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে গত ১২ আগস্ট থেকে শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পকারখানার প্রায় সবগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ বহন করতে হচ্ছিল শিল্পমালিকদের। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রতিদিনই বড় অঙ্কের উৎপাদন ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রপ্তানিমুখী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও। পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাব্বি জানান, গতকাল শনিবার সকাল থেকেই তাদের কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস পাওয়ায় মেশিন চালু করে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সায়হাম স্পিনিং মিলসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিয়াকত হোসাইন জানান, সকাল থেকেই তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকলে দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।’ — লিয়াকত হোসাইন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সায়হাম স্পিনিং মিলস
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হবিগঞ্জ জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. খালেদ গনি, মুহাম্মদ রেজাউল করিম, রাব্বি, লিয়াকত হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭১টি শিল্পকারখানা, ২০ দিন, ১২ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!