📌 তিন সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এর ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 গত সোমবার থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়
- 📌 মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির মহেশখালীর টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট, সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট
- 📌 গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে যায়
- 📌 দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের কম
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে তিন সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্যাস মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায় সেজন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার থেকে দৈনিক সরবরাহ ২০ কোটি ঘনফুট থেকে কমিয়ে ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনে সিএনজি সরবরাহেও দীর্ঘ সারি পড়ে যায়।
পেট্রোবাংলার সূত্র অনুযায়ী, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে, প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। এই প্রক্রিয়ায় টার্মিনালটি ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৃহস্পতিবার রাতে জানান, আগামীকাল শুক্রবার রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সেক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।
"আগামীকাল রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে সামিট।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মহেশখালী, কক্সবাজার, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কর্মকর্তা, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০, ৫০, ২১, ৩০, ৭২, ৩৮০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!