📌 ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের এক পরিবার শালিক দুটিকে বাড়িতে লালন-পালন করছে। পাঁচ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে থাকতে থাকতে তারা ‘মা’, ‘বাবা’, ‘কুটুম’সহ বিভিন্ন শব্দ শিখেছে। বাড়ির সদস্যরা তাদের ডাকলে তারা মুহূর্তে আসে
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলার বিরহলি গ্রামের এক পরিবার শালিক দুটিকে বাড়িতে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছে। খাঁচায় বন্দী না রেখে খোলা পরিবেশে লালন-পালন করা এই পাখি দুটি মানুষের কথা শিখেছে। ‘মা’, ‘বাবা’, ‘সাদিক’, ‘কুটুম’সহ বিভিন্ন শব্দের অনুকরণ করতে পারে তারা। বাড়ির সদস্যরা তাদের ডাকলে মুহূর্তেই আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শালিক দুটি ‘ময়না’ নামে পরিচিত, বাড়িতে পাঁচ বছর ধরে বেড়ে ওঠা
- 📌 ‘মা’, ‘বাবা’, ‘সাদিক’, ‘কুটুম’সহ ১০টি শব্দের অনুকরণ করতে পারে
- 📌 বাড়ির সদস্যরা ডাকলে মুহূর্তে আসে, নতুন মানুষ দেখলে ‘কুটুম’ বলে জানায়
- 📌 খাবারের সময় বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়ায়, দূরে উড়ে গেলেও ফিরে আসে
- 📌 গ্রামের মানুষও তাদের সঙ্গে কথা বলে, নতুন শব্দ শেখানোর চেষ্টা করে
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার বেলা ১১টা। ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের বিরহলি গ্রামের আবদুস সোবহানের বাড়ির উঠানে হঠাৎ উড়ে এসে বসল দুটি শালিক। তারা ডাকতে শুরু করল ‘সাদিক’, ‘সাদিক’। সাড়া না পেয়ে ‘মা’, ‘বাবা’ ডাকল। আবদুস সোবহান এগিয়ে আসতেই তারা ডাকল ‘কুটুম, কুটুম’। এরপর উড়ে গেল পাশের গাছের দিকে। এই দৃশ্য প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাড়িটিই তাদের ঠিকানা।
বছর পাঁচেক আগে হরিপুর উপজেলা থেকে শালিকের দুটি ছানা নিয়ে এসেছিলেন আবদুস সোবহানের ছেলে সাদিকুল ইসলাম। খাঁচায় বন্দী না রেখে বাড়িতেই তাদের লালন-পালন শুরু করেন। খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি মানুষের নিয়মিত সান্নিধ্য পেতে থাকে তারা। ধীরে ধীরে বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। প্রায় দুই বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের মুখে শোনা শব্দ অনুকরণ করতে শুরু করে পাখি দুটি।
সাদিকুলের মা সিদ্দিকা বেগম বলেন, ‘কেউ ডাকলেই কাছে আসে। খাবারের সময় বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করে। কখনো উঠানে, কখনো সামনের দোকানে গিয়ে বসে। অনেক দূরে উড়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসে এই বাড়িতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে অপরিচিত কেউ এলেই শালিক দুটি ‘কুটুম, কুটুম’ বলে জানান। আমি ডাকলেন ‘ময়না, ময়না’। ডাক শুনে মুহূর্তেই ছুটে এল শালিক দুটি। এরপর তারা ‘সাদিক’, ‘মা’, ‘বাবা’, ‘ভাই’, ‘ভাবি’, ‘আল্লাহ’ প্রভৃতি শব্দ অনুকরণ করতে শুরু করল।’
সিদ্দিকা বেগম বলেন, ‘লালন-পালন করতে করতে পাখিগুলোর প্রতি মায়া জমে গেছে। ওরাও আমাদের ছেড়ে কোথাও যায় না।’ আবদুস সোবহান বলেন, ‘সন্তানকে যেভাবে লালন-পালন করেছি, শালিকজোড়াকেও আমরা সেভাবেই বড় করেছি।’
"সাদিকুলের বাড়িটিও শালিক দুটির কাছে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে। তাই বাইরে উড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা আবার সেখানে ফিরে আসে। পাখির গলায় মানুষের স্বরযন্ত্রের মতো ‘সিরিংক্স’ নামের একটি অঙ্গ রয়েছে। এর সাহায্যে তারা বিভিন্ন সুর ও শব্দ তৈরি করতে পারে।"
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মানুষের কাছাকাছি থেকে নিয়মিত কথা শুনতে শুনতেই শালিক দুটি কিছু শব্দ ও ধ্বনি অনুকরণ করতে শিখেছে বলে মনে হয়।’ তিনি আরও জানান, ‘পাখি দুটি এখন শুধু সাদিকুলদের বাড়ির নয়, এলাকার মানুষের কাছেও পরিচিত। অনেকে তাদের দেখতে ও কথা বলতে আসেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিরহলি গ্রাম, পীরগঞ্জ উপজেলা, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাদিকুল ইসলাম, সিদ্দিকা বেগম, আবদুস সোবহান, জাহাঙ্গীর আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টা (বেলা), ৫ বছর (বাড়িতে বেড়ে ওঠা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!