📌 গ্যাস সংকটে দেশের ৬৬০টি বস্ত্রকল বিপর্যস্ত। সুতা উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিকের মাত্র ৩০ শতাংশে। গত এক মাসে ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, ২৪৪টি কারখানা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদিত হতো। তবে গত এক মাস ধরে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোশাররফ হোসেন জানান, দুই দিন ধরে গ্যাসের চাপ সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৩-৪ পিএসআই হয়েছে। তবে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তাঁর মতে, গত এক মাসে কম উৎপাদনের কারণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের ৬৬০টি বস্ত্রকল গত জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে
- 📌 স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদিত হতো, যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশে
- 📌 গাজীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলের এক মাসে ক্ষতি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা
- 📌 বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০টির বেশি টেক্সটাইল মিল রয়েছে
- 📌 ২০১৯ সাল থেকে ২৪৪টি বস্ত্রকল বন্ধ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক ই-মেইলে জানায় যে, দেশের ৬৬০টি বস্ত্রকল গত জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে। এসব কারখানার উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। সংগঠনটি জানায়, কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা ও যাচাই করা হচ্ছে। মূল্যায়ন শেষে কারখানাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সহযোগিতার বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে।
গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বস্ত্রকলগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় গত দুই–তিন দিনে গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় এখনো সংকট কাটেনি। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘায়িত সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
গাজীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলের এমডি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুই দিন ধরে গ্যাসের চাপ বেড়ে ৩-৪ পিএসআই হয়েছে। যদিও উৎপাদন খুব বেশি বাড়েনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত এক মাসে কম উৎপাদনের কারণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
নরসিংদীর সাটিরপাড়া এলাকার ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস টানা ২২ দিন বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে উৎপাদন শুরু হলেও শুধু রাতে কারখানাটি চালানো সম্ভব হয়েছে। কারণ, দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যেত। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আনিসুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ‘গতকাল বিকেল থেকে গ্যাস পাচ্ছি। এটি নিয়মিতভাবে পেলেই হলো। আমরা যদি ১৬-১৭ ঘণ্টা গ্যাসও পাই, তাহলে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পপার্কে অবস্থিত এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানায় ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক বাবুল হোসেন জানান, তাঁদের কারখানায় দিনে ১১০ টন কাপড় ডাইং করা যায়। প্রতি কেজির ডাইং চার্জ ১০০ টাকা ধরলে ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। একই সঙ্গে গার্মেন্টস সেকশনে চাহিদা অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করা যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
‘গত এক মাসে কম উৎপাদনের কারণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।’ — মোশাররফ হোসেন, এমডি, মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এমডি মোশাররফ হোসেন, আনিসুর রহমান ভূঁইয়া, বাবুল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৬০টি (বস্ত্রকল), ৩০ শতাংশ (উৎপাদন), ৫ কোটি টাকা (ক্ষতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!