📌 বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এলএনজি টার্মিনালের অচলাবস্থা ও আগুনে সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প ও পরিবহন খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়েছে
বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় যানবাহন, শিল্প ও বাসাবাড়ির জন্য গ্যাসের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য খাতে গ্যাসের অভাব আরও প্রকট হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং সিএনজিচালিত বহু যানবাহন অচল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের জন্য বিক্ষোভও হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে
- 📌 সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে দৈনিক মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে
- 📌 দেশীয় গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদনসহ মোট সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে চাহিদা প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট
- 📌 গ্যাস সংকটের কারণে ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলের গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন
- 📌 জামালপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন
📰 বিস্তারিত
বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় যানবাহন, শিল্প ও বাসাবাড়ির জন্য গ্যাসের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য খাতে গ্যাসের অভাব আরও প্রকট হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং সিএনজিচালিত বহু যানবাহন অচল হয়ে পড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটির (সামিট গ্রুপের) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়তে পারছে না বলেই এ অবস্থা। আর অর্ধেক সচল থাকায় মার্কিন মালিকানাধীন এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
এদিকে দেশীয় গ্যাসকূপ থেকে ১৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদনসহ সার্বিক সরবরাহ দিনে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি রয়েছে। অথচ চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়নের মতো। আমদানির এলএনজি ও দেশীয় কূপের উৎপাদন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন ধরা এবং পরবর্তী সময়ে সাগর উত্তাল হওয়ার কারণে সামিটের এলএনজি কার্গো বন্দরে ভেড়াতে না পারার কারণে গত ২১ জুলাই থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা-উৎপাদনের হিসাব একেবারে গড়বড় হয়ে গেছে।
"গ্যাস-সংকট দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শিল্প ও পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করছে। বাসাবাড়ির চুলায় পাইপের সরবরাহ কার্যত বন্ধ। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেও এলএনজি টার্মিনালের পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। সড়কে গ্যাসভিত্তিক যানবাহনও অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে। শিল্পকারখানাগুলোতে বয়লার অচল হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে তুষ অথবা অন্যান্য দেশীয় জ্বালানি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে।"
গ্যাস সংকটের কারণে ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলের গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। গতকাল দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের জন্য পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সেখানে আবদুল খালেক নামে এক লরিচালক বলেন, ‘রাতে চট্টগ্রামের ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আমার গাড়িটি গ্যাসে চলে। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ফিলিং স্টেশনে এসেছি। কিন্তু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।’
জামালপুরে গ্যাস-সংকট নিরসন ও গ্যাসের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। গতকাল সকাল ৬টায় জামালপুর পৌর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। চালকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস-সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। গতকাল বেলা ১টার দিকে সরাইল সদরের এক সিএনজি স্টেশনের সামনে এই অবরোধ করেন তাঁরা। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল খালেক (লরিচালক), কর্মকর্তাদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!