📌 গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ আয়োজন করে দ্রুত শ্রম আইন ২০২৬ বাস্তবায়ন, মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেরও দাবি তুলেছে সংগঠনটি
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে দ্রুত শ্রম আইন ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, মজুরি বোর্ড গঠন, গণতান্ত্রিক শ্রমবিধি প্রণয়ন এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি একইসঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি শ্রমিক অধিকার ও শিল্প সংরক্ষণের দাবি জানায়
- 📌 বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি তাসলিমা আখতার জানান, শতাধিক কারখানা বন্ধ থাকায় চার হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মহীন
- 📌 শ্রম আইন ২০২৬-এর অধীনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ সহজীকরণ ও তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত
- 📌 গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তাসলিমা আখতার
- 📌 বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী জানান, ২০২৩ সালে মজুরি বৃদ্ধি হলেও তা শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে দ্রুত শ্রম আইন ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, মজুরি বোর্ড গঠন, গণতান্ত্রিক শ্রমবিধি প্রণয়ন এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি একইসঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে। সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, সারাদেশে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় চার হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের জীবনে। শ্রম আইন ২০২৬ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রুত শ্রমবিধি প্রণয়ন করার তাগিদ দেন তিনি। নতুন আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ সহজ করা, পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন এবং গৃহশ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতিসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে উল্লেখ করেন তাসলিমা আখতার।
তাসলিমা আখতার বলেন, শ্রমবিধি প্রণয়ন না হলে এসব অধিকার বাস্তবে কার্যকর হবে না। তিনি আরও জানান, বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমিকদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
"গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারখানায় জ্বালানি না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিক ও শিল্প উভয়ের ওপর। সরকারকে দ্রুত এ সংকটের সমাধান করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে পোশাক শ্রমিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকরাও সেই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অজুহাতে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারকে তা বন্ধে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে মজুরি বাড়ানো হলেও তা শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। পরবর্তীতে মর্যাদাপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান তিনি।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বানও জানান মিজানুর রহীম চৌধুরী। সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসলিমা আখতার, মিজানুর রহীম চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চার হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!