📌 চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ে ৩৯ শতাংশ পতন হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় কমেছে ৫৯.৯৯ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ৪৫.৭৪ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৩৯.৭৪ শতাংশ। ঢাকা ব্যাংক শীর্ষে ১২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় সর্বাধিক কমেছে — ৫৯.৯৯ শতাংশ। এছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যথাক্রমে ৪৫.৭৪ শতাংশ ও ৩৯.৭৪ শতাংশ কমে গেছে। ব্যাংকিং খাতের মোট সিএসআর ব্যয় এখন ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা কম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫৯.৯৯ শতাংশ — ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা থেকে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা
- 📌 শিক্ষা খাতে ব্যয় কমেছে ৪৫.৭৪ শতাংশ — ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা
- 📌 স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমেছে ৩৯.৭৪ শতাংশ — ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা
- 📌 মোট সিএসআর ব্যয় কমেছে ৩৯.৮ শতাংশ — ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা থেকে ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকা
- 📌 বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৮৭.১১ শতাংশ সিএসআর ব্যয় করেছে — মোট ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা
- 📌 ঢাকা ব্যাংক শীর্ষে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড দ্বিতীয় অবস্থানে ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
- 📌 খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা — মোট ঋণের ৩৩ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের ষাণ্মাসিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মাসে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যাংকগুলো ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের ষাণ্মাসিক (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) এ খাতে ব্যয় ছিল ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এভাবে ৫৯.৯৯ শতাংশ পতন হয়েছে। শিক্ষা খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় কমেছে ৪৫.৭৪ শতাংশ — ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য খাতে কমেছে ৩৯.৭৪ শতাংশ, যেখানে আগের ষাণ্মাসিকে ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা, বর্তমানে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
ব্যাংকিং খাতের মোট সিএসআর ব্যয় এখন ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা কম। বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধিই সিএসআর ব্যয় কমার মূল কারণ। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ। এছাড়াও, ব্যাংকগুলোতে মুনাফা কমে যাওয়ায় সিএসআর ব্যয়ে কাটবাড়ি হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর ধরনভেদেও সিএসআর ব্যয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। দেশের ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৩৩টি ব্যাংক মোট ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা মোট ব্যয়ের ৮৭.১১ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা (১০.৮৫ শতাংশ), আর রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মাত্র ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা (মোট সিএসআর ব্যয়ের ২৯.১১ শতাংশ), শিক্ষা খাতে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা (২০.২৭ শতাংশ), পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা (৯.৮৪ শতাংশ) এবং অন্যান্য খাতে ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা (৪০.৭৭ শতাংশ)।
"ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধিই সিএসআর ব্যয় কমার অন্যতম কারণ"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ব্যাংকিং খাত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৯.৯৯ শতাংশ (পরিবেশ খাতে পতন), ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকা (বর্তমান সিএসআর ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!