📌 পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও মজুরি সংকট নিরসনে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে মালিক-শ্রমিকপক্ষের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 ১ নভেম্বর সরকার ৬ সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ আজাদ সুবহানী নিযুক্ত হন।
- 📌 বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন।
- 📌 শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
- 📌 বর্তমান মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকরা মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
- 📌 গাজীপুর, মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন চলছে, যার ফলে কারখানা বন্ধ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
বৈঠকের আগে বুধবার বেলা ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে।
ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যে, শ্রমিকরা দাবি করছেন, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কথা তুলে ধরেছেন।
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলনের কেন্দ্রে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে, যা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
"শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সচিবালয়), মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সৈয়দ আজাদ সুবহানী, আসিফ আইয়ুব, আনোয়ার হোসেন, বাবুল আখতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ নভেম্বর, ৭:০০ পিএম, ১১:০০ টা, ১২ হাজার ৫০০ টাকা, ৩০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!