📌 রাঙামাটির দীপ্তি চাকমা পাহাড়ি গয়না ব্যবসা শুরু করেছিলেন ক্রেতাদের আগাম টাকা দিয়ে। বর্তমানে তিনি দুটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করছেন এবং মাসে অর্ধলক্ষ টাকা আয় করছেন
রাঙামাটির কুতুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা দীপ্তি চাকমা পাহাড়ি গয়নার ব্যবসা শুরু করেছিলেন ক্রেতাদের আগাম টাকাই দিয়ে। বর্তমানে তিনি দুটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করছেন এবং ব্যবসা থেকে মাসে অর্ধলক্ষ টাকা আয় করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **পুঁজিহীন ব্যবসা শুরু**: ২০১৭ সালে স্নাতক ছাত্রী দীপ্তি চাকমা ক্রেতাদের আগাম টাকা নিয়ে পাহাড়ি গয়না ব্যবসা শুরু করেন।
- 📌 **দুটি বিক্রয়কেন্দ্র**: বর্তমানে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জামতলায় দুটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে তাঁর।
- 📌 **মাসে অর্ধলক্ষ আয়**: খরচ বাদ দিলে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হয়।
- 📌 **পাহাড়ি ঐতিহ্যের অলংকার**: বিক্রি হয় ‘আলজরা’, ‘আজুলি’, ‘হুজি হারু’, ‘থেং হারু’, বাজু, কয়েন মালা, নেকলেস, টিকলি, আংটি ও চুড়ি।
- 📌 **শিক্ষা ও ব্যবসা সমন্বয়**: পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায়েই মনোনিবেশ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
দীপ্তি চাকমা পাহাড়ি গয়না ব্যবসা শুরু করেছিলেন ২০১৭ সালে। স্নাতক (সম্মান) ছাত্রী থাকাকালীন তিনি ফেসবুক পেজ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ক্রেতাদের আগাম টাকা নিয়ে গয়না সংগ্রহ ও বিক্রি করতেন। শুরুতে পুঁজি না থাকায় ক্রেতাদের ৫০ শতাংশ আগাম টাকা দিতে হতো। এই টাকাই ছিল তাঁর মূল পুঁজি।
ব্যবসা শুরু করার পর দীপ্তি চাকমা বলেন, ‘শুরুতে আমার হাতে কোনো পুঁজি ছিল না। তাই ক্রেতারা পেজ থেকে কিছু কিনতে চাইলে তাঁদের আগেই ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হতো। এই টাকাই ছিল মূলত আমার পুঁজি।’ তিনি জানান, অনলাইনে ব্যবসা চাঙা হওয়ার পর তাঁর পুঁজিও বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে রাঙামাটি শহরে একটি বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলেন তিনি। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০২৪ সালে আরেকটি বিক্রয়কেন্দ্র খাগড়াছড়ি শহরে স্থাপন করেন।
দীপ্তি চাকমা পাহাড়ি নারীদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী অলংকার বিক্রি করেন। যেমন: ‘আলজরা’, ‘আজুলি’, ‘হুজি হারু’, ‘থেং হারু’, বাজু, কয়েন মালা, নেকলেস, টিকলি, আংটি ও চুড়ি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব অলংকার ব্যবহৃত হয়।
"আমি চাই, পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী গয়না-অলংকার আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাক। অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি শোরুমে এসে ক্রেতারা সরাসরি অলংকার দেখতে পারছেন।"
দীপ্তি চাকমা বর্তমানে বাবা সতীশ চন্দ্র চাকমা ও মা শিখা চাকমার বড় মেয়ে। তিনি ২০১৩ সালে মাধ্যমিক ও ২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ব্যবসা শুরু করার পর ২০২০ সালে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও ২০২২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যবসায়িক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি খাগড়াছড়ির বিক্রয়কেন্দ্রে দুজন কর্মী নিয়োগ করেছেন। তাঁদের একজন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) শিক্ষার্থী। ব্যবসা পরিচালনায় তাঁর স্বামী প্রমোতোষ চাকমাও সহযোগিতা করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটি (কুতুকছড়ি), খাগড়াছড়ি (জামতলা), রাঙামাটি শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দীপ্তি চাকমা, সতীশ চন্দ্র চাকমা, শিখা চাকমা, প্রমোতোষ চাকমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শতাংশ (আগাম টাকা), ৫০ হাজার টাকা (মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!