📌 ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকার ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সহিংসভাবে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টায় জড়িতদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করে চরিত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে কঠোর করে তোলে। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের তুলনা দেয়
ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকার ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সহিংসভাবে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করে চরিত্র যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করে তোলে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ‘সহিংস উপায়ে সরকার পরিবর্তন’ করার লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠনের সদস্যরা সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তরপ্রদেশ সরকার ‘রেজিম চেঞ্জ’-এ জড়িতদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে
- 📌 চরিত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগের তিন বছরের মধ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে
- 📌 শুধু রাজনৈতিক আদর্শ বা এফআইআর দায়েরের কারণে কোনো প্রার্থীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না
- 📌 বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস নির্দেশিকাকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের তুলনা দেয়
- 📌 বর্তমান সরকারি কর্মচারীদের আবার চরিত্র যাচাই করতে হবে না, তবে প্রয়োজনে পূর্ব কর্মস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে
📰 বিস্তারিত
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সহিংসভাবে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব সংগঠনের লক্ষ্য ‘সহিংসভাবে বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তন’ করা, সেসব সংগঠনের সদস্যরা সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগের তিন বছরের মধ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যাবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, শুধু রাজনৈতিক আদর্শের কারণে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। এফআইআর দায়ের বা তদন্ত চলমান থাকলেও শুধু সেই কারণে নিয়োগ বাতিল করা যাবে না। আদালতে খালাস পাওয়া ব্যক্তি, আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া মামলা এবং কিশোর বিচার আইনের আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্যতা কার্যকর হবে না।
বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র উদয়বীর নির্দেশিকাকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের তুলনা দেয়। তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনামলে এ ধরনের নির্দেশ জারি করা হতো। কিন্তু স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদ করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিও নির্দেশিকাকে অতিরিক্ত কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকার বিচারকের মতো আচরণ করছে এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আদালত রয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারি কর্মচারীদের আবার চরিত্র যাচাই করতে হবে না। তবে প্রয়োজন হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের আগের কর্মস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। সরকারের লক্ষ্য, চরিত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করা।
"ব্রিটিশ শাসনামলে এ ধরনের নির্দেশ জারি করা হতো। কিন্তু স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদ করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। নির্বাচনসহ প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয় এবং যে কেউ সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরপ্রদেশ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যোগী আদিত্যনাথ, উদয়বীর, রশিদ আলভি, এম দেবরাজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!