📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হবে ঋণগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণগুলো দূর করতে। তিনি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও কৃষিপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দিকে সতর্কতা জানিয়েছেন
বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য সরকারের কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ স্বাগত্য হলেও এর স্থায়ী সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ঋণগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণগুলো দূর না করা পর্যন্ত কৃষকদের স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, সেটাই প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারের হিসাব অনুযায়ী, কৃষিঋণ মওকুফের মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- 📌 লক্ষ্মীপুরে নির্বাচিত ৫৭ জন সার ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী — এনসিপি নেতা
- 📌 পীরগাছায় ডিলারশিপ ঘিরে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন পাটওয়ারী
- 📌 পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি
- 📌 কৃষক কম দামে বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হন, কিন্তু ভোক্তা পণ্য কিনতে হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা — পাটওয়ারীর দাবি
📰 বিস্তারিত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘কৃষকদের সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছে। তবে স্বস্তিটা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটাই প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, সরকার যদি ঋণগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণগুলো দূর না করে, তাহলে কৃষক আবারও একই সমস্যায় পড়বেন।
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের দিকে বিশেষভাবে সতর্কতা জানিয়ে পাটওয়ারী বলেছেন, লক্ষ্মীপুরে নির্বাচিত ৫৭ জন সার ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এছাড়াও পীরগাছায় ডিলারশিপ ঘিরে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই কেউ অযোগ্য হয়ে যান না, কিন্তু অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ কেনাবেচার অভিযোগ সত্য হলে কৃষকদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, পঞ্চগড়ের কৃষক লাউ দুই থেকে তিন টাকায় বিক্রি করেন, কিন্তু ঢাকায় সেই লাউয়ের দাম দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি স্বীকার করলেও তিনি বলেছেন, পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। তিনি বলেন, ‘কৃষক কম দামে পণ্য বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ক্রেতাকে বেশি দামে কিনতে হয়। অথচ উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্যের দামের এত বড় ব্যবধানের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না।’
পাটওয়ারী বলেন, কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ ভালো ফল দিতে পারে, তবে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, বাড়তি দামে সার বিক্রি, পথে চাঁদাবাজি এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ না করা পর্যন্ত কৃষক আবারও ঋণের বোঝায় পড়বেন। তিনি সরকারকে সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
"কৃষককে ঋণমুক্ত করার পাশাপাশি লোকসানমুক্তও করুন। কৃষকের কাছ থেকে কম দামে কেনা পণ্য ভোক্তার কাছে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ার কারণ ও মধ্যবর্তী খরচের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানাই"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লক্ষ্মীপুর, পীরগাছা, পঞ্চগড়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (এনসিপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক উপকৃত, ৫৭ জন ডিলার (মধ্যে ৪৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী), ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ, ৫০-৬০ টাকা লাউয়ের দাম ঢাকায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!