📌 চট্টগ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টিল মিলের জায়গায় গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী ইপিজেড, যা বিশ্বের ৮০টি দেশে রপ্তানি করে বৈচিত্র্যময় পণ্য। ২০০৬ সালে উদ্বোধিত এই শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ হয়েছে ৭৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজার লোকের
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে একসময় শিল্পের জ্বালা জ্বালাতো চট্টগ্রাম স্টিল মিলস। কিন্তু বর্তমানে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে রপ্তানি শিল্পের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার জায়গায় গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল), যা বিশ্বের ৬টি মহাদেশের ৮০টি দেশে পণ্য রপ্তানি করে। গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই শিল্পাঞ্চল থেকে ইউরোপের ২৯টি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর** উদ্বোধিত কর্ণফুলী ইপিজেড এখন **বিশ্বের ৮০টি দেশে** রপ্তানি করে **বৈচিত্র্যময় পণ্য** — সাইকেল, তাঁবু, খনিশ্রমিকের জুতা, হ্যামক, ব্যাগ, আসবাবপত্র ইত্যাদি।
- 📌 **৭৮ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার** বিনিয়োগে **২০৯ একর** জায়গায় গড়ে উঠেছে এই শিল্পাঞ্চল, যেখানে **৮০ হাজার লোকের** কর্মসংস্থান হয়েছে।
- 📌 **কারখানায়** প্রতিদিন **১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ সাইকেল** তৈরি হয়, যা **২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা** মূল্যে রপ্তানি হয়।
- 📌 **অফমা ক্যাম্প লিমিটেড** থেকে **৪ কোটি ২৫ লাখ ডলারের** পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে **হ্যামক, স্লিপিং ব্যাগ, ঘোড়ার স্যাডল প্যাড**।
- 📌 **পার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড** থেকে **৬ কোটি ডলারের** পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে **ব্যাগ ও ভারোত্তোলনের বেল্ট**।
- 📌 **শিন চ্যাং শুজ (বিডি) লিমিটেড** থেকে তৈরি হয় **খনিশ্রমিকের জুতা**, যা **যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি** হয়।
📰 বিস্তারিত
১৯৬৭ সালে কার্যকর হওয়া চট্টগ্রাম স্টিল মিলস ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০৩ সালে সরকার সেখানে **রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)** গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্ণফুলী ইপিজেডের উদ্বোধন করেন। এই শিল্পাঞ্চল থেকে **পর্বতারোহীর সাইকেল, খনিশ্রমিকের জুতা, ঝুলন্ত বিছানা (হ্যামক), স্লিপিং ব্যাগ, গাড়ির কভার, ভারোত্তোলনের বেল্ট** সহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি হয়।
কারখানাগুলোতে প্রতিদিন **১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ সাইকেল** তৈরি হয়, যা **মাউন্টেন, রেসিং, ফোল্ডিং** ধরনের। এই সাইকেলগুলো **২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা** মূল্যে রপ্তানি হয়। অন্যদিকে, **অফমা ক্যাম্প লিমিটেড** থেকে **হ্যামক, স্লিপিং ব্যাগ, বালিশ, ঘোড়ার স্যাডল প্যাড** রপ্তানি হয়, যা **বিশ্বের ২১টি দেশে** পৌঁছেছে।
**পার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড** থেকে তৈরি হয় **সার্ফিং ব্যাগ, ট্রাভেল ব্রাগ, ব্যাকপ্যাক, লেডিস ব্যাগ**। এই প্রতিষ্ঠানটি **প্রতি মাসে ছয় লাখ পিস ব্যাগ** তৈরি করে। আর **শিন চ্যাং শুজ (বিডি) লিমিটেড** থেকে তৈরি হয় **খনিশ্রমিকের জুতা**, যা **যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি** হয়।
"মাউন্টেন, রেসিং, ফোল্ডিং সাইকেলসহ বিশেষায়িত সাইকেল তৈরি হয় তাঁদের কারখানায়। এসব সাইকেল রপ্তানি হয় ইউরোপের বাজারে। প্রতিটি সাইকেলের গড় রপ্তানিমূল্য ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।" — **দেব কুমার দাশ**, করভো সাইকেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কর্ণফুলী ইপিজেড, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেগম খালেদা জিয়া (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী), দেব কুমার দাশ, মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ ইউসুফ মাহবুব আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০টি দেশ, ৬টি মহাদেশ, ২০৯ একর, ৭৮ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার, ৮০ হাজার কর্মসংস্থান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!