📌 এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখিয়ে বলেছেন, সিটি নির্বাচনে এই ন্যারেটিভের কারণে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, বিদেশে টাকা পাচার ও পদায়নে টাকার লেনদেনের অভিযোগের পিছনে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাত রয়েছে
এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে এই ন্যারেটিভের কারণে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদকের তদন্তের রাজনৈতিক লক্ষ্য: আসিফ মাহমুদ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে পদায়নে টাকার লেনদেন ও বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের পিছনে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাত রয়েছে।
- 📌 সিটি নির্বাচনে হারানোর আশঙ্কা: তিনি দাবি করেছেন, তদন্তের ফলাফল আসার আগেই এই ন্যারেটিভের কারণে জনগণের মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং তিনি নির্বাচনে হারবেন।
- 📌 পরিবারের উপর হয়রানি: আসিফ মাহমুদ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ন্যারেটিভের কারণে তার পরিবারও রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হতে পারে।
- 📌 ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: তিনি বলেছেন, যদি তার দেশের বাইরে এক টাকা বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
- 📌 ভাগ্নের নাম জড়িয়ে অভিযোগ: আসিফ মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তার আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের ভাগ্নেকে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দুদকের তদন্তের বিষয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আজ থেকে হয়তো কিছুদিন পর অথবা কয়েক বছর পর দুদকের এই অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত আমাকে নিরপরাধও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যখন আমাকে নিরপরাধ পাওয়া যাবে, তখন পর্যন্ত যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যাবে। মানে পাবলিক পারসেপশন—পলিটিক্স তো আসলে পারসেপশনের ওপর চলে। এই পারসেপশনে ক্ষতি করার মধ্য দিয়ে আমার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার বলেন, এবং আমাকে ধরা মানে তো শুধু আমাকে ধরে না, আমাকে আমার বিরুদ্ধে এই ন্যারেটিভ করা তো অনেকেই উল্লাস নিয়ে করে যে—দেখো, গণঅভ্যুত্থানটা আসলে ঠিক হয় নাই। গণঅভ্যুত্থানের নেতারা দেখো এরকম।’
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে এই অভিযোগের রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আমি এমন কিছু করি নাই যেটা আমার গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, আমার বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট, সেটাকে ব্রেক করে, সেটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু ওই প্রমাণিত হইতে হইতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ততদিনে হয়তো এই ন্যারেটিভ দিয়ে আমি সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে যাচ্ছি, সেখানে আমাকে জনগণের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হবে, আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে।’
রাজনৈতিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘হয়তো এই ন্যারেটিভ দিয়ে আমাকে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করা হবে। এই ন্যারেটিভ দিয়ে তো সবকিছু হয়।’
দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা পরিচিত আছে—সরকারের আশেপাশে এবং যারা হয়তো খোঁজখবর রাখেন বিভিন্ন কার্যক্রমের। এবং কথা বলে যেটা আমি বুঝতে পেরেছি, এই বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানোর জন্যই আমার বিরুদ্ধে।’
অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এটাকে একটা নিউজ কনটেন্ট হিসেবে মোর কনজিউম করানোর একটা চেষ্টা বা একটা প্রচেষ্টা আমরা শুরু থেকে দেখে আসছি।’
"এখানে যেই কথা বলা আছে যে, চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা—এক টাকা যদি দেশের বাইরে কোথাও পাওয়া যায়, আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাইরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণা দেশের বাইরে সে কিনেছে।"
বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে, কেউ যদি আমাকে বলে যে তুমি দশ বছর জেল খাটবা না দেশের বাইরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা, আমি তখন দশ বছর জেল খাটাটাকে আমি চুজ করব। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটাই স্ট্রং।’
অভিযোগে তার দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নে জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমার আসলে ভায়রাভাই দুজন নাই, আমার বড় বোনই শুধুমাত্র বিবাহিত, একজন ভায়রাভাই আছেন। এবং আমার যেই ভাগ্নে আছে, আমার ভাগ্নের বয়স হচ্ছে আড়াই থেকে তিন বছর বয়স। তো একটা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চা, যে মাত্র হাঁটা শিখেছে—আপনারা তাকে পর্যন্ত এটার মধ্যে মানে টেনে আনলেন। একটা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চাকে আপনারা এলিগেশন দিচ্ছেন মানি লন্ডারিংয়ের! মানে এটা খুবই দুঃখজনক।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ হাজার কোটি টাকা (পাচার), ১৩:০০ (এএম), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!