📌 গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৫০টি গ্যাস কূপ খনন ও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি পর্যবেক্ষণে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সংকটের সমাধান খুঁজে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প খাতের গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট করার লক্ষ্য রেখেছে সরকার। বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৩০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট।
- 📌 ১৫০টি গ্যাস কূপ খনন ও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। এছাড়া দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 কয়লা উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 গত ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের ভুলনীতি ও অনিয়মের ফল। বিরোধী দলের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
- 📌 ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
- 📌 গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হিসেবে সরকার দীর্ঘদিনের গ্যাস অনুসন্ধানের ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ১০ বছরের মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সমুদ্র ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যার সময়সীমা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণে আরও একটি দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ১০০ কোটির বেশি গ্যাস আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ টন yearly, যার ৮০ শতাংশ আমদানি করে পূরণ করা হয়।
বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। উদ্যোক্তারা ব্যাটারিসহ সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকা দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
"গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত। তবে বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের ভুলনীতি ও অনিয়মের ফল। সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছি।" — **প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান**, সংসদে ১০ সেপ্টেম্বর
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সরকারি কার্যালয়, সংসদ, পেট্রোবাংলা), সমুদ্র (গ্যাস অনুসন্ধান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ কোটি ঘনফুট (গ্যাস সরবরাহ লক্ষ্য), ১৫০টি গ্যাস কূপ, ১০ হাজার মেগাওয়াট (সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্য), ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা (ক্যাপাসিটি চার্জ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!