📌 বেকারি পণ্যের দাম ২০% বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে বনরুটি ও কেকের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষের নাশতায় খরচ বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এখনো দাম বাড়েনি
বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়ে শ্রমজীবীদের খরচে চাপ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। গত শনিবার থেকে বনরুটি ও কেকের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সমিতি নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বনরুটির দাম পিসপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে, ফলে রিকশাচালকদের নাশতায় খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বনরুটি ও কেকের দাম ২০ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।
- 📌 ঢাকার মোহাম্মদপুরের রিকশাচালক আলমগীরের নাশতায় খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা (১০ টাকা বনরুটি + ১৫ টাকা চা)।
- 📌 বেকারি মালিকদের দাবি, গত দেড়-দুই বছরে ময়দা, চিনি, ডালডা, তেল ও গ্যাসসহ কাঁচামালের দাম বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ।
- 📌 ঢাকার বাইরে (খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সাভার) এখনো বনরুটির দাম বাড়েনি।
- 📌 আগের তুলনায় বনরুটির ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে, কিন্তু দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে।
- 📌 দাম বাড়ানোর দাবিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ঢাকার বেকারি কারখানাগুলো উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার রিকশাচালক মো. আলমগীর দিনে ১০-১২ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে নাশতায় বনরুটি ও চা খাওয়া একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগে প্রতিবার নাশতায় তার খরচ হতো মাত্র ২০ টাকা — ১০ টাকা বনরুটি ও ১০ টাকা চা। কিন্তু গত শনিবার থেকে এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা। কারণ, বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়ে সমিতি নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।
বেকারি মালিকদের দাবি, গত ছয় মাসে ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল ও গ্যাসসহ কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, খোলা ময়দার দাম ৩০ শতাংশ, সয়াবিন তেলের দাম ৫ শতাংশ ও চিনির দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। এই কারণে বেকারি পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.০২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩২ শতাংশ। এই অবস্থায় বেকারি পণ্যের দাম বাড়ার ফলে নিম্নবিত্ত শ্রমিকদের জীবনযাপন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
বেকারি মালিক জালাল উদ্দিন বলেছেন, “গত এক বছরে কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন হ্রাস করা সম্ভব নয়। ফলে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি ওজনও কমিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।”
"দুইডা খেপ ভাড়া মাইরা একটা রুটি, একটা চা খাওনা লাগে। না হয় শরীরে বল পাই না। কিন্তু এখন খরচ ৫ টাকা বাড়ছে।"
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ঢাকার বেশ কয়েকটি বেকারি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে নতুন মূল্যে বাজারে পণ্য সরবরাহ শুরু হয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও খিলগাঁও এলাকায় বনরুটি ও কেকের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সাভারে এখনো দাম বাড়েনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, খিলগাঁও), খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সাভার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আলমগীর (রিকশাচালক), জালাল উদ্দিন (বেকারি মালিক), জব্বার শেখ (চা বিক্রেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ টাকা (বনরুটির দাম বৃদ্ধি), ২০ টাকা (নাশতার আগের খরচ), ২৫ টাকা (নাশতার নতুন খরচ), ২০ শতাংশ (দাম বৃদ্ধি), ৭.০২ শতাংশ (খাদ্য মূল্যস্ফীতি), ৯.৩২ শতাংশ (খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!