📌 গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বামী মাদকাসক্ত। মা রুমানা আক্তার ১০ হাজার টাকা না দিলে সন্তান বিক্রির হুমকি দিচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও শিশু উদ্ধারের দাবি করছে
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় মাদকাসক্ত স্বামী ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর মা রুমানা আক্তার দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ জুলাই। সন্তানকে নিয়ে আর ফিরে আসার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় রুমানা আক্তার ও তাঁর পরিবার শিশু উদ্ধারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে স্বামী হামিদুল মিয়া পালিয়ে যান।
- 📌 মাদকাসক্ত স্বামী ১০ হাজার টাকা না দিলে সন্তান বিক্রির হুমকি দিয়েছেন।
- 📌 মা রুমানা আক্তার জানান, স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং নির্যাতন করতেন।
- 📌 ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিয়ে হওয়া রুমানা ও হামিদুলের সংসার শুরুতে ভালো ছিল, পরে নির্যাতন শুরু হয়।
- 📌 সদর থানা জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি, তবে শিশু উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় বসবাসকারী রুমানা আক্তার গত ১৭ জুলাই তার স্বামী হামিদুল মিয়া শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিন কাটাচ্ছেন। রুমানা জানান, গত ১৭ জুলাই বিকেলে স্বামী শ্বশুরবাড়িতে এসে মেয়েকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাইরে বের হন। এরপর থেকে তিনি ও মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
রুমানা দাবি করেন, স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার দুই দিন পর স্বামী মুঠোফোনে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সন্তান বিক্রির হুমকি দেন। রুমানা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। নিখোঁজের দুই দিন পর বিকেলে মোবাইলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভাবের কারণে সেই টাকা দিতে পারিনি। এমনকি সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।’
রুমানা আরও জানান, স্বামীর আরও দুটি বউ আছে। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। সে আমাকে সন্তান বিক্রি করার হুমকি দিয়েছে। আমার সন্তান কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হামিদুল মিয়া ও রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দুই-তিন মাস সংসার ভালোভাবে চললেও পরে হামিদুল নিয়মিত মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন। রুমানা জানান, নির্যাতন সহ্য করেও তিনি সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এর প্রায় পাঁচ মাস পর হামিদুল শ্বশুরবাড়িতে এসে মেয়েকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে বের হন। এরপর থেকে তিনি ও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
"আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই। আমি গরিব মানুষ। আমি কীভাবে ১০ হাজার টাকা দেব? আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই।"
রুমানার মা রোশনা বেগম বলেন, ‘এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পাপ করেছিলাম। ছেলেটি যে এত নিষ্ঠুর, ১১ মাস বয়সী ছোট্ট মেয়েটিকে বিক্রি করার হুমকি দেবে, তা ভাবিনি। আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই।’ স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, ‘সে সব ধরনের নেশা করে। এ রকম বেয়াদব স্বামী যেন আর কারও কপালে না জোটে। আমরা শিশুটিকে উদ্ধার চাই।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ ধানঘড়া, গাইবান্ধা সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুমানা আক্তার, হামিদুল মিয়া, রোশনা বেগম, আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ মাস (মেয়ের বয়স), ১৭ জুলাই (ঘটনার তারিখ), ১০ হাজার টাকা (হুমকির টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!