📌 ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা আলোচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, ক্ষুদ্রঋণকে শুধু দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার থেকে সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে
১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা ক্ষুদ্রঋণকে আজকালের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এর নতুন চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রা** বর্তমান অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করেছে, কিন্তু শুধু অর্থায়ন নয়, প্রক্রিয়াগত হয়রানি কমাতে ও নীতি উন্নতিতে জোর দিতে হবে।
- 📌 **বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ খাতে** সদস্য সংখ্যা ৪ কোটি ৩৭ লাখ এবং ঋণগ্রহীতা ৩ কোটি ১৬ লাখের বেশি, যেখানে এমএফআই-এর ঋণ ফেরতের হার ৯৫ শতাংশ।
- 📌 **সুদহার ২৪ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে** নামিয়ে আনার দাবি উঠেছে, কারণ প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণখেলাপির হার রয়েছে।
- 📌 **গ্রামীণ অর্থনীতিতে** কৃষি, উদ্যোগীতা ও অকৃষি খাতের সংযোগকে মজবুত করতে সরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
- 📌 **ক্ষুদ্রঋণকে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার থেকে** সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে, কারণ আজকের গ্রহীতারা শুধু দরিদ্র নয়, বহুমুখী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীও।
📰 বিস্তারিত
গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, ১৯৮০-এর দশকে ক্ষুদ্রঋণের ভাবমূর্তি ছিল দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার। কিন্তু আজকাল এটি সামাজিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য চালক হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আজকের কৃষক শুধু কৃষিকাজই নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন। তাই ক্ষুদ্রঋণের নতুন ভূমিকা বুঝতে গ্রহীতার এই পরিবর্তনকে বুঝতে হবে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা চারটি মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন: অর্থায়ন, হয়রানি, নীতি ও উদ্ভাবন। তারা দাবি করেছেন, শুধু ঋণ দিলেই হবে না, প্রয়োজনের সময়ে অর্থ পৌঁছাতে হবে এবং প্রক্রিয়াগত হয়রানি কমাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ খাতে সদস্য সংখ্যা ৪ কোটি ৩৭ লাখ এবং ঋণগ্রহীতা ৩ কোটি ১৬ লাখের বেশি। তিনি উল্লেখ করেছেন, উদ্যোক্তা ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্ব শুধু দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, গ্রামীণ ও অনানুষ্ঠানিক উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা ও এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গেও যুক্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোস্তাফা পরিচালক বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শুধু অর্থায়ন ও সুদহারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত জটিলতা বন্ধ, নীতি ঘাটতি দূর এবং উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে। তিনি বলেছেন, এতে গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হবে।
"আজকের গ্রহীতারা শুধু দরিদ্র নয়, বহুমুখী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীও। তাই ক্ষুদ্রঋণকে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার থেকে সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, প্রথম আলো কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মোস্তাফা পরিচালক, মো. ফজলুল কাদের, মীর রায়হান আলী, সায়মা হক বিদিশা, নাজনীন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার কোটি টাকা (কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রা), ৪ কোটি ৩৭ লাখ (ক্ষুদ্রঋণ সদস্য), ৩ কোটি ১৬ লাখ (ঋণগ্রহীতা), ৯৫ শতাংশ (এমএফআই-এর ঋণ ফেরতের হার), ২৪ শতাংশ (বর্তমান সুদহার), ২০ শতাংশ (সুদহার লক্ষ্যমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!