📌 বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। গণশুনানিতে বিশেষজ্ঞরা এই দামকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি বলে সমালোচনা করেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা প্রস্তাব করেছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, কর্মী ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ, অবচয় ও বিনিয়োগের ওপর রিটার্নসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিইআরসির প্রস্তাবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৪৮ পয়সা
- 📌 প্রস্তাবিত দামে বছরে প্রায় ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় ধারণা করা হয়েছে
- 📌 ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রের সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যাটারি সংরক্ষণের প্রস্তাব
- 📌 গণশুনানিতে বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত দামকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি বলে সমালোচনা করেন
📰 বিস্তারিত
বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত দামে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, কর্মী ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, অবচয় ও বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের মিটার, স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং, মিটার পরীক্ষা ও সিলিং, বিলিং ও সংগ্রহ, বিতরণব্যবস্থার ক্ষতি এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্টের খরচও প্রস্তাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত দামে বছরে প্রায় ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় ধারণা করা হয়েছে। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম জানান, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রের সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যাটারি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
"প্রস্তাবিত দামকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি বলে সমালোচনা করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, বিইআরসিকে নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুতের ন্যায্য বেঞ্চমার্ক দাম নির্ধারণ করতে হবে।"
গণশুনানিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম প্রশ্ন তোলেন যে, প্রস্তাবিত দাম ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি একে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। এম শামসুল আলমের প্রশ্নের উত্তরে বিইআরসির কর্মকর্তারা বলেন, নির্দিষ্ট প্যারামিটার ও ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁরা আরও জানান যে, এসব প্যারামিটার পরিবর্তন হলে দাম পরিবর্তন হতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবউননেছা গণশুনানিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে উৎপাদন খরচ, বেঞ্চমার্ক ও দেশ–বিদেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে হবে। ট্যারিফ নির্ধারণের আগে পূর্ণাঙ্গ ব্যয়–সুবিধা বিশ্লেষণ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর সেগুনবাগিচা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. দিদারুল আলম (বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি), এম শামসুল আলম (জ্বালানি বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা, বছরে রাজস্ব আয় ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট, ব্যাটারি সংরক্ষণ ১০-২০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!