📌 বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে চাহিদার মাত্র ২০-২৫% ঋণ পাচ্ছেন। সরকারের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের বিতরণ খুবই ধীরগতিতে চলছে। নিট পোশাকশিল্পের ৭৮টি বন্ধ কারখানাও ঋণ পাচ্ছেন না
বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে চাহিদার মাত্র ২০-২৫% ঋণ পাচ্ছেন। সরকারের প্রণোদনা তহবিলের বিতরণের গতি ধীর এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এদিকে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো সেভাবে চালু হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাতবাক্স ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকার ঋণ চেয়েছিল, কিন্তু ব্যাংক মাত্র ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি
- 📌 সিইও শাফাত কাদির বলেন, "আমাদের সম্পদ নেই, কিন্তু ঋণ কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করছি। এখনো আমরা চাহিদার ২৫% পাচ্ছি"
- 📌 ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে মাত্র ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে, বিতরণ ৫৬১ কোটি টাকা
- 📌 বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছয় মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে, গত অর্থবছরে ছিল ৪.৪৭ শতাংশ
- 📌 ৭৮টি বন্ধ কারখানা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ চেয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যাংক বোর্ডে সিদ্ধান্ত পাস হয়নি
- 📌 চট্টগ্রামের হিফস অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ২০ কোটি টাকার ঋণ চেয়েছিল, ব্যাংক মাত্র ৩-৪ কোটি টাকা দিতে প্রস্তাব দেয়
📰 বিস্তারিত
স্যুভেনির তৈরির হাতবাক্স একটি বেসরকারি ব্যাংকে ২০ লাখ টাকার সিসি ঋণের আবেদন করেছিল। কিন্তু ব্যাংক মাত্র ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি। ব্যাংকের কর্মকর্তারা জামানতের ৭০-৮০ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। শাফাত কাদির, হাতবাক্সের সিইও প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা নতুন উদ্যোক্তা। আমাদের সম্পদ নেই, কিন্তু দৈনিক লেনদেন ও ঋণ কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করছি। তারপরও আমরা যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছি, তার চার ভাগের এক ভাগ পাচ্ছি। এই অল্প টাকায় আমাদের কিছুই হবে না।”
একই সমস্যা মোকাবেলা করছেন চট্টগ্রামের হিফস অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ। তারা ২০ কোটি টাকার ঋণ চেয়েছিল, কিন্তু ব্যাংক মাত্র ৩-৪ কোটি টাকা দিতে প্রস্তাব দেয়। সিইও ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান বলেন, “আগে ব্যাংক ১২০ শতাংশের বেশি ঋণ দিত। কিন্তু এখন ৭০-৮০ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমাদের পণ্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে আগের চেয়ে তিন মাস বেশি সময় লাগছে। ফলে পুঁজি বেশি লাগছে, কিন্তু ব্যাংক থেকে সহায়তা পাচ্ছি না।”
বাংলাদেশ ব্যাংক ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার জন্য। কিন্তু ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। আর পুরো তহবিল থেকে মাত্র ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছয় মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪৭ শতাংশ। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় আছেন, ফলে নতুন বিনিয়োগে তেমন গতি নেই।
নিট পোশাকশিল্পের ৭৮টি বন্ধ কারখানা এবং ১০৯টি আংশিক বন্ধ কারখানা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ চেয়েছে। কিন্তু বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমাদের জানামতে, এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পায়নি। একটি বন্ধ কারখানার জন্য ঋণের বিষয়টি কোনো ব্যাংকের বোর্ডে পাস হয়নি।”
"আমাদের সম্পদ নেই, কিন্তু ঋণ কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করছি। তারপরও আমরা চাহিদার ২৫% পাচ্ছি। এই অল্প টাকায় আমাদের কিছুই হবে না।"
"আগে ব্যাংক ১২০ শতাংশের বেশি ঋণ দিত। কিন্তু এখন ৭০-৮০ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিইও শাফাত কাদির, সিইও ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, মোহাম্মদ হাতেম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ, ৫ লাখ, ৭০-৮০%, ৬২ হাজার কোটি, ১১ হাজার ৯৬০ কোটি, ৫৬১ কোটি, ৪.৪৭%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!