📌 কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬০৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক অর্থায়ন করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রেখেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা, যা ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার
- 📌 প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা, যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার টাকা
- 📌 ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) প্রকল্পটিতে ৩৫ কোটি ইউরো ঋণ ও ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান দেবে
- 📌 প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে
- 📌 ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে স্থাপন করা হবে
- 📌 প্রকল্পের আওতায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ওভারহেড সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজমুল হক জানান, মাতারবাড়ীর ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে থাকা অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার জন্য প্রস্তুত করা খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুবিধা কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে। এই কাঠামোর অধীনে ৩৫ কোটি ইউরো ঋণ এবং ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সহায়তা রয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা ৬৩০ একর জমির মধ্যে মাত্র ১০৫ একর জমিতে ছাইয়ের পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৫২৫ একর জমির একটি অংশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।
প্রকল্পের আওতায় সৌর ফটোভোলটাইক (পিভি) মডিউল, ইনভার্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নিকটবর্তী মাতারবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ওভারহেড সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী ও চকরিয়া ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সার্কিটের ওভারহেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে। মাতারবাড়ীতে তিনটি ও চকরিয়ায় একটি—মোট চারটি ১৩২ কেভি এয়ার ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (এআইএস) বে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
"মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আমদানি করা সরঞ্জাম দ্রুত খালাস ও পরিবহন করা সম্ভব হবে।"
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। পরে প্রকল্পটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ৭০ মেগাওয়াট করার সুপারিশ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম প্রধান মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে শিগগিরই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, মহেশখালী উপজেলা, মাতারবাড়ী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নজমুল হক (সিপিজিসিবিএল পরিচালক), মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (পরিকল্পনা কমিশন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ মেগাওয়াট (সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা), ৬০৪ কোটি টাকা (মোট ব্যয়), ১৭১ একর (জমির পরিমাণ), ২০২৮ (বাস্তবায়ন লক্ষ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!