📌 বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্তে নওগাঁর ৩৬৭ কোটি টাকার সাইলো প্রকল্প বাতিল। ১৫ একর জমিতে এখন কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধন চন্দ্র মজুমদারের আগ্রহে নেওয়া প্রকল্পের জমিতে মাটি ভরাটের কাজও করা হয়েছিল
বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্তে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকার আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের আগ্রহে নেওয়া হয়েছিল। গত মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাতিল প্রকল্পের জমিতে এখন কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৬৭ কোটি টাকার সাইলো প্রকল্প বাতিল; ১৫ একর জমিতে এখন কেন্দ্রীয় গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা
- 📌 সাধন চন্দ্র মজুমদারের আগ্রহে নেওয়া প্রকল্পে ৪৮ হাজার টন ধান সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল
- 📌 নওগাঁ জেলায় ইতিমধ্যে ২০টি খাদ্যগুদাম রয়েছে; ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৫০০ টন
- 📌 সাইলো নির্মাণের স্থান থেকে নৌপথের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার; রেলপথের কোনো সংযোগ নেই
- 📌 প্রকল্প বাতিলের কারণ: পরিবহন খরচ বেশি, বাল্ক পরিবহনের সুবিধা নেই
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের ভীমপুর ইউনিয়নে ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার স্টিল সাইলো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য সাধারণ মানুষের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল এবং মাটি ভরাটের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। সাধন চন্দ্র মজুমদার ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁর আগ্রহে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাধন চন্দ্র মজুমদারকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। প্রকল্প বাতিলের পেছনে প্রধান কারণ ছিল পরিবহন সুবিধার অভাব। সাইলোতে নৌপথে বা রেলপথে মালামাল পরিবহন করা সম্ভব নয়। নওগাঁর মহাদেবপুরে নৌপথ বা রেলপথের কোনো সংযোগ নেই। সাইলো নির্মাণের স্থান থেকে আত্রাই নদীর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং ছোট যমুনা নদীর দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব কবির আহমাদ জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। সাইলো নির্মাণের জন্য বাল্ক পরিবহনের সুবিধা থাকা প্রয়োজন, যা নওগাঁর মহাদেবপুরে নেই। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসীম উদ্দিন খান বলেন, বস্তা ছাড়া চাল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সাইলো নির্মাণের কোনো কার্যকর উপযোগিতা নেই। এজন্য প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।
"ওই জায়গায় স্টিলের সাইলো নির্মাণের কোনোভাবেই কার্যকর নয়। স্টিলের সাইলো নির্মাণ যুক্তিযুক্ত হবে না।"
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নওগাঁ জেলায় ইতিমধ্যে ২০টি খাদ্যগুদাম রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৫০০ টন। সরকার চাইলে এখান থেকে ৩০ শতাংশ বেশি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করতে পারে। এছাড়া, সাইলো নির্মাণের পরিবর্তে ১ হাজার টন ধারণক্ষমতার ২৫টি গুদাম নির্মাণ করা সম্ভব, যা মোট ২৫ হাজার টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেলা, মহাদেবপুরের ভীমপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাধন চন্দ্র মজুমদার, কবির আহমাদ, জসীম উদ্দিন খান, আবদুল্লাহ আল ইমরান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬৭ কোটি টাকা, ১৫ একর জমি, ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতা, ২০টি খাদ্যগুদাম, ৪১ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতা, ১২ কিলোমিটার দূরত্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!