📌 বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার সাত দফা দাবি মেনে না নিলে একদফা আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ করে বলেছেন, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জনগণ অবিচল থাকবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (৩১ অক্টোবর) কুষ্টিয়ায় সাত দফা দাবির সমাপনী সমাবেশে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, সরকার যদি সাত দফা দাবি মেনে না নেয়, তাহলে একদফা আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে। তিনি জানান, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য একদফা আন্দোলনের ডাক দিতে দল বাধ্য হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাত দফা না মানলে একদফা আন্দোলন অবশ্যম্ভাবী — ডা. শফিকুর রহমানের সতর্কবার্তা
- 📌 ৭০ শতাংশ জনগণ বাংলাদেশের পরিবর্তন চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তাদের প্রতারণা করেছে
- 📌 ১৪০০-এর বেশি শহিদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে সরিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন
- 📌 ১১ দলীয় ঐক্য ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে লংমার্চ করে দাবি আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে
- 📌 সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামুনুল হক বলেন, তেল, গ্যাস ও সারসহ দ্রব্যের বাজার কুক্ষিগত করে দেশকে পঙ্গু করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
কুষ্টিয়া শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাপনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার আপনাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাতে এবং আপনাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হতে এখানে এসেছি। আপনারা ৭০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। রাজনীতির নোংরা ধারাকে মাটির নিচে চাপা দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন।’
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ইতিহাসে যখনই জনগণের রায়কে অপমান করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। আমাদের দাবি মেনে নিন। এগুলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি, কোনো দলীয় দাবি নয়।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৪০০-এর বেশি সন্তান বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে সরিয়ে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সরকার শহিদদের সম্মান করে না। শহিদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ। আপনাদের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই সেই স্বপ্নের দলিল।’
অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবিচল থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আল্লাহ যদি পছন্দ করেন, তাহলে জীবন যাবে তবু অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না, ইনশাআল্লাহ। জনগণের এই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে তাদের আগ্রহ দেখা যায়, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অনীহা কেন? কারণ পরিষ্কার — সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সরকার গঠন করা যায়, মন্ত্রী হওয়া যায়। আর মন্ত্রী হলে সিন্ডিকেট তৈরি করে জনগণের সম্পদ লুট করা যায়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ দ্রব্যের বাজার কুক্ষিগত করে দেশকে পঙ্গু করা হচ্ছে।’
সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন এবং সেক্রেটারি এনামুল হক প্রমুখ।
এই লংমার্চের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ করে। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়।
"আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ইতিহাসে যখনই জনগণের রায়কে অপমান করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। ভালোয় ভালোয় আমাদের দাবি মেনে নিন। একটি দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। সবগুলোই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া, শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান, মামুনুল হক, মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ শতাংশ, ১৪০০, ১১ দল, ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!